বঙ্গে নিপার হানা! বারাসতের হাসপাতালে ভর্তি দুই নার্স, সংক্রমণ মোকাবিলায় SOP তৈরি রাজ্যের

বঙ্গে নিপার হানা! বারাসতের হাসপাতালে ভর্তি দুই নার্স, সংক্রমণ মোকাবিলায় SOP তৈরি রাজ্যের

খেজুর-রসের মরশুমে ফের আতঙ্ক বাংলায়। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দু’জনের হদিশ মিলেছে রাজ্যে। সঙ্কটজনক অবস্থায় বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি দুই নার্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও কোয়ারান্টিনের পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (SOP) তৈরি রয়েছে বলে জানাল নবান্ন।

কীভাবে মিলল নিপা আক্রান্তের খোঁজ

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁচিশের ওই দুই নার্স—একজন মহিলা ও একজন পুরুষ—কর্মসূত্রে বারাসতে ভাড়া থাকতেন। মহিলা নার্সের বাড়ি কাটোয়ায় এবং পুরুষ নার্সের বাড়ি নদিয়ায়। ডিসেম্বরের শেষদিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহিলা নার্স। জ্বর ও ডায়ারিয়ার উপসর্গ দেখা দিলেও প্রাথমিক চিকিৎসায় সাড়া মেলেনি।

একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা, শেষে বারাসত

৩১ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ৩ জানুয়ারি কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হলে মেনিঞ্জাইটিস সন্দেহে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। সেখানে আইসিইউ-তে দু’দিন থাকার পর ৬ জানুয়ারি বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয় তাঁকে। প্রায় একই সময়ে ভর্তি করা হয় অপর পুরুষ নার্সকেও।

রিপোর্টে নিশ্চিত নিপা সংক্রমণ

কল্যাণী এইমস থেকে আসা রিপোর্টে দুই নার্সের নিপা সংক্রমণ নিশ্চিত হতেই স্বাস্থ্য মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। আরও নিশ্চিতকরণের জন্য তাঁদের নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV)-তে পাঠানো হয়েছে।

কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও কোয়ারান্টিন শুরু

ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানান, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কোয়ারান্টিনে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আক্রান্তরা একাধিক জায়গায় যাতায়াত করায় কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ দীর্ঘ ও জটিল বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

ফল, খেজুর-রস নিয়ে সতর্কতা জারি

নিপা সাধারণত বাদুড়ে খাওয়া ফল বা সেই ফলের রস থেকে ছড়ায়। খেজুর-রস যেহেতু বাদুড়ের পছন্দের খাদ্য, তাই ফল, ফলের রস ও কাঁচা আনাজ ব্যবহারে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে নবান্ন।

রাজ্যজুড়ে প্রস্তুতি, তৈরি SOP

স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানান, রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজে নিপা শনাক্তকরণের পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। মুখ্যসচিব স্পষ্ট করেন, “নিপা মোকাবিলায় রাজ্যের নির্দিষ্ট SOP তৈরি রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তা কার্যকর করা হবে।”

অতীতের নিপা আতঙ্কের স্মৃতি

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে নিপা সংক্রমণে ৬৬ জন আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৫ জন। ২০০৭ সালে নদিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ জনের কারও প্রাণ রক্ষা করা যায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেরালায় নিপা ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

রাজ্যে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের খোঁজ মিলেছে। বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন তাঁরা। সংক্রমণ রুখতে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, কোয়ারান্টিন ও বিশেষ SOP কার্যকর করার কথা জানাল রাজ্য প্রশাসন।

Leave a comment