Howrah News: হাঁড়ি-কলসি নয়, মাটির ফল-সবজিতেই বাজিমাত! রঙিন শিল্পে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন হাওড়ার কুমোররা

Howrah News: হাঁড়ি-কলসির চাহিদা কমলেও মাটির তৈরি ফল, সবজি ও শোপিস বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন হাওড়ার মৃৎশিল্পীরা।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবনযাপন, বদলেছে ঘরের ব্যবহার্য সামগ্রীও। একসময় সংসারের অপরিহার্য অংশ ছিল মাটির হাঁড়ি-কলসি। আজ সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক ও স্টিল। তবে হতাশায় গুটিয়ে না নিয়ে নতুন পথ খুঁজে নিয়েছেন হাওড়ার কুমোররা—মাটির ফল, সবজি ও রঙিন শোপিসেই ফিরছে হাসি।

মাটির বাসনের চাহিদা কম, সংকটে ঐতিহ্য

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বর্তমানে এক কঠিন সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাসনের দাপটে রান্নাঘরে মাটির পাত্রের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কুমোরদের জীবিকায়। বহু পরিবার পেশা বদলের কথাও ভাবতে শুরু করেছিল।

সৃজনশীলতায় নতুন দিশা

এই সংকট থেকেই জন্ম নিয়েছে নতুন ভাবনা। আয় বজায় রাখতে কুমোররা ঝুঁকছেন ‘রিয়েলিস্টিক আর্ট’-এর দিকে। মাটির তৈরি আম, কুমড়ো, পেঁপে, তাল, কাঁঠাল কিংবা পটল, বেগুন, ফুলকপি—দেখতে এতটাই বাস্তব যে প্রথম দেখায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

মেলা ও দোকানে বদলে যাচ্ছে ছবি

যেখানে আগে মাটির বাসনের দোকানে একঘেয়ে হাঁড়ি-কলসি দেখা যেত, এখন সেখানে সাজানো রয়েছে ঘর সাজানোর নানা শোপিস। ফল-সবজি ছাড়াও মাছ, হাঁস, পেঁচা-সহ নানা মডেল মানুষের নজর কাড়ছে। শৌখিন ক্রেতাদের কাছে এগুলির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

আয়ের নতুন ভরসা মাটির শোপিস

মৃৎশিল্পীদের দাবি, সংসার চালানোর ক্ষেত্রে এখন এই মাটির ফল ও সবজি হাঁড়ি-কলসির থেকেও বেশি ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। যারা নিত্যনতুন ডিজাইন ও রঙে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, তাঁদের আয়ও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

শিল্পীর কণ্ঠে বাস্তব অভিজ্ঞতা

স্থানীয় শিল্পী শুভজিৎ পাল জানাচ্ছেন, “এখন আর আগের মতো হাঁড়ি-কলসির চাহিদা নেই। কিন্তু মাটির তৈরি ফল, সবজি আর বিভিন্ন মডেল বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। নতুন ডিজাইন করলে ক্রেতার আগ্রহও বাড়ে।”

হাওড়ায় মাটির শিল্পে বড় পরিবর্তন। প্লাস্টিক ও স্টিলের বাসনের চাপে হাঁড়ি-কলসির চাহিদা কমলেও বাস্তবধর্মী মাটির ফল, সবজি ও শোপিস বিক্রি করে নতুন করে লাভের মুখ দেখছেন কুমোররা। সৃজনশীলতার জোরেই পেশায় টিকে থাকার অক্সিজেন পাচ্ছেন বাংলার মৃৎশিল্পীরা।

Leave a comment