সিধু-কানুদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ঐতিহাসিক হুল দিবস উদযাপনের মঞ্চ থেকেই আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল রাজ্য সরকার। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সাগরদিঘিতে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হল হুল দিবস
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি পিডব্লিউ ময়দানে সরকারি উদ্যোগে পালিত হল হুল দিবস ২০২৬। নতুন রাজ্য সরকার গঠনের পর এটিই ছিল সরকারি উদ্যোগে প্রথম হুল দিবস উদযাপন। ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর শহিদ সিধু ও কানুর স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে আদিবাসী সংস্কৃতির বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রী গৌরীশঙ্করের বার্তা—উন্নয়নের মূল স্রোতে সব সম্প্রদায়
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে তিনি আদিবাসী, তফসিলি জাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর দাবি, সংবিধানে প্রান্তিক মানুষের জন্য একাধিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও অতীতে অনেক যোগ্য ব্যক্তি সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই বঞ্চনার অবসান ঘটানো।
ঘরে ঘরে পৌঁছবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা
মন্ত্রী জানান, অনগ্রসর কল্যাণ দফতরের বিভিন্ন প্রকল্প যাতে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিটি উপযুক্ত পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তার জন্য প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক আধিকারিকরাই নন, স্থানীয় স্কুলশিক্ষকদেরও এই সচেতনতা অভিযানে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা কোনওভাবেই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
আদিবাসীদের জমি রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস
বক্তব্যে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম, খড়গ্রাম, সাগরদিঘি ও বড়ঞা এলাকার আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে জমি হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। প্রান্তিক মানুষের জমি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
একদিনের অনুষ্ঠান নয়, চলবে বছরভর সচেতনতা কর্মসূচি
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, হুল দিবস শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিধু-কানুর আত্মত্যাগের চেতনাকে সামনে রেখে বছরজুড়ে আদিবাসী ও অনগ্রসর সমাজের শিক্ষা, অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে সরকারি উদ্যোগে পালিত হল হুল দিবস ২০২৬। অনুষ্ঠানে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ আদিবাসী, তফসিলি জাতি ও ওবিসি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি প্রান্তিক পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।









