বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত হল সঠিক ওজন বজায় রাখা। অতিরিক্ত ওজন যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি অত্যন্ত কম ওজনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিজের উচ্চতার সঙ্গে ওজনের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই কাজকে সহজ করতেই একটি সহজ ফর্মুলার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. এস কে সারিন।
BMI নয়, সহজ হিসাবেই জানা যাবে আদর্শ ওজন
অনেকেই আদর্শ ওজন নির্ধারণের জন্য BMI (Body Mass Index) ব্যবহার করেন। তবে BMI-এর হিসাব অনেকের কাছেই জটিল মনে হয়। সেই কারণে ড. সারিন একটি সহজ পদ্ধতির কথা বলেছেন।তাঁর মতে, প্রথমে নিজের উচ্চতা সেন্টিমিটারে মাপুন। এরপর সেই সংখ্যা থেকে ১০০ বিয়োগ করুন। যে সংখ্যাটি থাকবে, সেটিই আপনার আনুমানিক আদর্শ ওজন (কেজিতে)।উদাহরণ হিসেবে, যদি কারও উচ্চতা ১৬০ সেন্টিমিটার হয়, তাহলে ১৬০ – ১০০ = ৬০। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির আদর্শ ওজন প্রায় ৬০ কেজি হওয়া উচিত।
কাদের ক্ষেত্রে এই হিসাব কিছুটা আলাদা?
বিশেষজ্ঞের মতে, যাঁদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদি বিপাকজনিত অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত আদর্শ ওজনের থেকেও প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি কম ওজন বজায় রাখা উপকারী হতে পারে। তবে এটি একটি সাধারণ পরামর্শ। ব্যক্তিভেদে চিকিৎসকের পরামর্শই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
বয়সের সঙ্গে ওজনের পরিবর্তন স্বাভাবিক
ড. সারিনের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের গঠন ও বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। তাই বিভিন্ন বয়সে আদর্শ ওজনের সীমাও কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
১৯–২৯ বছর: পুরুষদের ওজন প্রায় ৮৩.৪ কেজি এবং মহিলাদের ৭৩.৪ কেজি পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়।
৩০–৩৯ বছর: পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০.৩ কেজি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৭৬.৭ কেজি পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।
৪০–৪৯ বছর: পুরুষদের প্রায় ৯০.৯ কেজি এবং মহিলাদের ৭৬.২ কেজি পর্যন্ত স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
৫০–৬০ বছর: পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৯১.৩ কেজি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৭৭ কেজি পর্যন্ত ওজন স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এই পরিসংখ্যান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। শরীরের গঠন, পেশির পরিমাণ, জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপরেও আদর্শ ওজন নির্ভর করে।
শুধু ওজন নয়, নজর দিন কোমরের মাপেও
চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র ওজন দেখে শরীরের সুস্থতা বিচার করা ঠিক নয়। কোমরের মাপ, শরীরে চর্বির পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মতো স্বাস্থ্য সূচকও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওজন স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।
শরীরের ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রায় সকলেরই। কিন্তু আপনি সত্যিই অতিরিক্ত ওজনের কি না, তা বুঝতে সবসময় BMI চার্টের প্রয়োজন হয় না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. এস কে সারিন একটি সহজ হিসাবের কথা জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে মাত্র এক মিনিটেই জানা যেতে পারে উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন কত হওয়া উচিত।













