বেআইনি নির্মাণ কী করে ‘আইনি’ হল? বিস্মিত মেয়র ফিরহাদ হাকিম

কালিকাপুরে বেআইনি নির্মাণ হঠাৎ আইনি হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিল্ডিং বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। আদালতের নির্দেশে দায় এড়ানো নয়, স্পষ্ট বার্তা মেয়রের।

Illegal Construction Kolkata: কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুরে যে নির্মাণকে কিছুদিন আগেই বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটিই এখন আইনি বলে দাবি উঠেছে। শুক্রবারের ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে অভিযোগকারীর মুখে এই কথা শুনেই বিস্মিত হন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সাত দিন আগে যে নির্মাণ বেআইনি, পনেরো দিন পরে তা কী করে আইনসম্মত হয়?” বিল্ডিং বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছ থেকে তিনি কড়া জবাব দাবি করেন।

বেআইনি নির্মাণ কী করে ‘আইনি’ হল? বিস্মিত মেয়র ফিরহাদ হাকিম

টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে ক্ষোভ উগরে দিলেন ফিরহাদ

শুক্রবারের পুরসভার সরাসরি ফোন–ইন অনুষ্ঠান ‘টক টু মেয়র’-এ অভিযোগকারীর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। অভিযোগ ছিল, কালিকাপুরের একটি বহুতলকে আগে বেআইনি ঘোষণা করে ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন সেটি ‘আইনি’। এই মন্তব্য শুনে মেয়র বিস্মিত হয়ে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিককে জিজ্ঞেস করেন, “এটা কী করে সম্ভব?”

মেয়রের প্রশ্ন: সাত দিনে বেআইনি, পনেরো দিনে আইনি কেন

মেয়রের বক্তব্য, “একদিকে পুরসভা একটি নির্মাণকে বেআইনি ঘোষণা করছে, অন্যদিকে কিছুদিন পর সেই একই নির্মাণকে আইনসম্মত বলা হচ্ছে। এতে সাধারণ নাগরিকের কাছে পুরসভার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি পরিষ্কার জানান, এমন প্রশাসনিক বিভ্রান্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

বেআইনি নির্মাণ কী করে ‘আইনি’ হল? বিস্মিত মেয়র ফিরহাদ হাকিম

বিল্ডিং বিভাগের ব্যাখ্যা, আদালতের নির্দেশের যুক্তি

বিল্ডিং বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক মেয়রকে জানান, নির্মাণকারী পক্ষ আদালতে গিয়েছে এবং আদালত তাদের পক্ষে নির্দেশ দিয়েছে। শুনে মেয়র বলেন, “এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার হয়তো ঘুষ নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।” মেয়র নির্দেশ দেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে অবিলম্বে শোকজ় করে কৈফিয়ত চাওয়া হোক।

মেয়রের কড়া বার্তা: দায় এড়ানো চলবে না

ফিরহাদ হাকিম জানান, আদালতের নির্দেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। পুরসভার আইনজীবীদের দায়িত্ব আদালতের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা কেন একটি নির্মাণ বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়রের বক্তব্য, “পুরসভা আদালতকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

ধাপে ধাপে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

মেয়র আরও বলেন, বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসনিক লড়াই যেমন চলবে, তেমনি প্রয়োজন হলে আদালতেও পুরসভা ধাপে ধাপে আইনি লড়াই চালাবে। তিনি সতর্ক করে দেন, “আদালত বলেছে—এই অজুহাত দিয়ে কেউ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।

বেআইনি নির্মাণ কী করে ‘আইনি’ হল? বিস্মিত মেয়র ফিরহাদ হাকিম

কালিকাপুরে একটি বেআইনি নির্মাণ হঠাৎ আইনি তকমা পেল বলে অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ হন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিল্ডিং বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেয়রের দাবি, আদালতের নির্দেশের আড়ালে দায় এড়ানো চলবে না।

Leave a comment