২০২৬ সালের কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রার জন্য আবেদন শুরু, জুন থেকে আগস্টে আয়োজন

ভারত সরকার ২০২৬ সালের কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রার জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা জুন থেকে আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৯ মে নির্ধারিত হয়েছে।

ভারত সরকারের উদ্যোগে ২০২৬ সালের কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই যাত্রা জুন থেকে আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই যাত্রার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন, যার শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৯ মে ২০২৬। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের সরকারি পোর্টাল kmy.gov.in-এ নিবন্ধন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ফর্ম জমা দিতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া কম্পিউটার-সৃষ্ট র‍্যান্ডম পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যেখানে লিঙ্গ সমতা বজায় রাখা হবে। অফলাইন আবেদন, যেমন চিঠি বা ফ্যাক্স পাঠানোর প্রয়োজন নেই এবং সমস্ত তথ্য ও আপডেট শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইটে উপলব্ধ থাকবে।

এই বছর যাত্রা দুটি প্রধান রুটে পরিচালিত হবে। প্রথম রুটটি উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস হয়ে এবং দ্বিতীয়টি সিকিমের নাথুলা পাস হয়ে যাবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ১০০ জন তীর্থযাত্রী এই যাত্রায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, যাদের ১০ জন করে দলে ভাগ করা হবে। এর মধ্যে ৫০ জন উত্তরাখণ্ড রুট দিয়ে এবং ৫০ জন সিকিম রুট দিয়ে যাত্রা করবেন। কৈলাশ পর্বত ও মানসসরোবর হ্রদ তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই যাত্রা ভারত ও চীনের সমন্বয়ে আয়োজিত হয়।

২০২৬ সালের কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রার জন্য আবেদন শুরু, জুন থেকে আগস্টে আয়োজন

কৈলাশ পর্বত ও মানসসরোবর হ্রদ বিশ্বে অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাশ পর্বতকে ভগবান শিবের আবাসস্থল হিসেবে ধরা হয় এবং মানসসরোবর হ্রদকে আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা ও মোক্ষের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। এই যাত্রা জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। জৈন ধর্মে এটি প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভদেবের সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং বৌদ্ধ ধর্মে এটি একটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে এই যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পূর্ব লাদাখ অঞ্চলে ভারত-চীন সীমান্তে সামরিক অচলাবস্থার কারণে এটি কয়েক বছর বন্ধ ছিল। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার পর ২০২৫ সালে যাত্রাটি পুনরায় শুরু হয়।

 

Leave a comment