ভারত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড অর্জন করেছে। সিরিজের এখনও দুটি ম্যাচ বাকি। আগামী ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল। পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি হবে ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে। দুটি ম্যাচই ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে।
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬-এ অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত হবে। নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ভারতীয় দর্শকরা দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ম্যাচটি দেখতে পারবেন। এর আগে ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ম্যাচের পর চতুর্থ ম্যাচের আগে দুই দল দুদিনের বিরতি পেয়েছে।
অকল্যান্ডের ইডেন পার্ক মাঠ ছোট বাউন্ডারির জন্য পরিচিত। এই মাঠে ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ থাকে। তবে ম্যাচের শুরুর দিকে পেস বোলাররাও সহায়তা পেতে পারেন।
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটি রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬-এ হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই ম্যাচ। এর পরেই শেষ হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
ভারত ইতিমধ্যেই সিরিজ জিতে নিয়েছে। ফলে শেষ দুটি ম্যাচের ফল সিরিজের বিজয়ী নির্ধারণে কোনও প্রভাব ফেলবে না। তবে বাকি দুটি ম্যাচ জিতলে ভারত ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে পারবে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে শেষ দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজের ব্যবধান কমাতে চাইবে নিউজিল্যান্ড।
সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ২২ অক্টোবর ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ২২৫ রান তোলে। জবাবে ভারত ১৯.৪ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ২৩০ রান করে চার উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়।
দ্বিতীয় ম্যাচটি ২৪ অক্টোবর একই মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ড ১৮০ রান করায় ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ১৮১ রান। ভারত ১৯.৫ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করে। দ্বিতীয় ম্যাচেও চার উইকেটে জয় পায় ভারত।
![]()
তৃতীয় ম্যাচটি ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করে। জবাবে ভারত মাত্র ১৩.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে নেয়। ছয় উইকেটে জয়ের সুবাদে ভারত সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড অর্জন করে।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা ৩৮ বলে ১১৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও নয়টি চার। মাত্র ৩৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি।
তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীও দ্রুত রান করেন। তিনি ১৯ বলে ৪৫ রান করেন। অভিষেক ও বৈভব প্রথম উইকেটে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন। এই জুটির সুবাদে ভারত বড় লক্ষ্য সহজেই অতিক্রম করে।
সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচেও ভারতীয় ব্যাটারদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে। অভিষেক শর্মার কাছেও নিজের ফর্ম ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর নিউজিল্যান্ড সফরে ভারত পাঁচ ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) সিরিজ খেলবে। প্রথম ম্যাচটি বুধবার, ৪ নভেম্বর অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি।
দ্বিতীয় ওয়ানডে ৭ নভেম্বর ওয়েলিংটনে, তৃতীয় ম্যাচ ১০ নভেম্বর হ্যামিল্টনে এবং চতুর্থ ম্যাচ ১৩ নভেম্বর মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে একই মাঠে ১৫ নভেম্বর খেলা হবে।
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) ওয়ানডে সিরিজের জন্য পৃথক দল ঘোষণা করেছে। প্রথম তিনটি ম্যাচে শুভমন গিল অধিনায়কত্ব করবেন। শেষ দুটি ম্যাচে দলের নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়স আইয়ার। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিও ওয়ানডে দলের অংশ।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকেও ভারতের কাছে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ। আপাতত ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ৩০ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটির দিকে। ম্যাচের সময়, স্কোর এবং দলসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য বিসিসিআইয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।










