কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩২৯ রানে। দলের চার ব্যাটার অর্ধশতরান করলেও মিচেল স্টার্কের ছয় উইকেটের দাপটে শেষ পর্যন্ত বড় স্কোরের পথে বাধা পায় স্বাগতিকরা। ৮২.৩ ওভারে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার এইডেন মার্করাম এবং মার্কেস একারম্যান শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের চাপে রাখেন। প্রথম উইকেটে দু’জনে ১৫৮ রান যোগ করে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান।
একারম্যান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ৯৪ বলে ৯৫ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও দুটি ছয়। শতরান থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকতে নাথান লায়নের বলে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির হাতে স্টাম্পড হন তিনি।
অন্যদিকে, মার্করাম ১৪১ বলে ৭৮ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছয়। জশ হ্যাজলউড তাঁকে আউট করেন।
প্রথম উইকেটের পতনের পর ডেভিড বেডিংহ্যামের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ রান যোগ করেন মার্করাম। বেডিংহ্যাম ৮০ বলে সাতটি চারের সাহায্যে ৫০ রান করেন।
![]()
তবে এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন ঘটে। অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা কোনও রান না করেই আউট হন। ম্যাথু ব্রিটজকে করেন মাত্র দুই রান। ভিয়ান মুল্ডারও রান করার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
পরপর উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উপর চাপ বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ২৩২ রানের মধ্যে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক দল। এক সময় বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে চলা দক্ষিণ আফ্রিকাকে তখন ইনিংস সামলানোর লড়াইয়ে নামতে হয়।
ছয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলের হাল ধরেন রায়ান রিকেলটন ও মার্কো ইয়ানসেন। সপ্তম উইকেটে দু’জনে ৯৫ রান যোগ করে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৩২৭-এ নিয়ে যান।
ইয়ানসেন ৭১ বলে সাতটি চারের সাহায্যে ৫২ রান করেন। অন্যদিকে, রিকেলটন ৮৩ বল খেলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৪২ রান যোগ করেন।
এই জুটির সৌজন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৩০০ পার হয়। তবে শেষ দিকে আর বেশি রান যোগ করতে পারেনি দলটি। মাত্র দুই রান যোগ করেই শেষ চারটি উইকেট হারায় তারা। ফলে ৮২.৩ ওভারে ৩২৯ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। তিনি ১৬.৩ ওভার বল করে ৭২ রান দিয়ে ছয়টি উইকেট নেন। ডেভিড বেডিংহ্যাম, ভিয়ান মুল্ডার, রায়ান রিকেলটন, মার্কো ইয়ানসেন, জেরাল্ড কোয়েটজি এবং কাগিসো রাবাডাকে আউট করেন স্টার্ক।
টেস্ট ক্রিকেটে এই নিয়ে ২০ বার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান লায়ন দুটি উইকেট নেন। জশ হ্যাজলউড ও কুপার কনোলি একটি করে উইকেট পান।
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দুই দলই বর্তমানে ১-১ ব্যবধানে সমতায় রয়েছে।









