কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ গুলভির সিং ও হরজিন্দর কৌরের রৌপ্যে ভারতের পদকসংখ্যা ১২

কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ গুলভির সিং ১০,০০০ মিটার দৌড়ে এবং হরজিন্দর কৌর ৬৯ কেজি ভারোত্তোলনে রৌপ্য পদক জিতেছেন। ভারতের মোট পদকসংখ্যা ১২-তে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বক্সিংয়ে তিন ভারতীয় বক্সার সেমিফাইনালে উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন।

ভারত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে আরও দুটি রৌপ্য পদক জিতে মোট পদকসংখ্যা ১২-তে পৌঁছে দিয়েছে। অ্যাথলেটিক্সে গুলভির সিং এবং ভারোত্তোলনে হরজিন্দর কৌর রৌপ্য পদক জিতেছেন। এছাড়া বক্সিংয়ে ভারতের তিন বক্সার সেমিফাইনালে উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাথলেটিক্স ও ভারোত্তোলনে দুটি রৌপ্য পদক জয়ের মাধ্যমে ভারতের মোট পদকসংখ্যা ১২-তে পৌঁছেছে। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার দৌড়ে গুলভির সিং রৌপ্য পদক জিতেছেন এবং মহিলাদের ভারোত্তোলনের ৬৯ কেজি বিভাগে হরজিন্দর কৌর ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন।

এদিকে বক্সিংয়ে ভারতের তিন বক্সার সেমিফাইনালে পৌঁছে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন। তবে দুটি নতুন রৌপ্য পদক জয়ের পরও পদক তালিকায় ভারত নবম স্থানে নেমে গেছে। সর্বাধিক স্বর্ণপদক নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

২৭ বছর বয়সি গুলভির সিং পুরুষদের ১০,০০০ মিটার দৌড়ে রৌপ্য পদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে এই ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট। দৌড়ের শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি চতুর্থ স্থানে ছিলেন। শেষ ল্যাপে গতি বাড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন।

উত্তর প্রদেশের আলিগড় জেলার সিরসা গ্রামের বাসিন্দা গুলভির সিং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নায়েব সুবেদার হিসেবে কর্মরত। সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি দৌড়ানো শুরু করেছিলেন। ২০১৮ সালে গ্রেনেডিয়ার্স রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার পর তিনি অ্যাথলেটিক্সকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছান।

মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে হরজিন্দর কৌর মোট ২২৭ কেজি ওজন তুলে রৌপ্য পদক জিতেছেন। তিনি স্ন্যাচে ১০১ কেজি তুলে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স করেন এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি তুলে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেন। পদক জয়ের পর তিনি দর্শকদের হাত জোড় করে অভিবাদন জানান। এটি কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর টানা দ্বিতীয় পদক।

পাঞ্জাবের নাভার মহেশ গ্রামের বাসিন্দা হরজিন্দর কৌর শুরুতে ভারোত্তোলনের পরিবর্তে কাবাডি ও দড়ি টানাটানি খেলতেন। তাঁর কোচ শারীরিক সক্ষমতা ও শক্তির ভিত্তিতে তাঁকে ভারোত্তোলনে আসার পরামর্শ দেন। গ্রামীণ জীবনে মাঠ ও বাড়ির কাজে গড়ে ওঠা শারীরিক সক্ষমতা তাঁকে এই খেলায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের পর এবার তিনি রৌপ্য পদক জিতেছেন।

হরজিন্দর কৌরের রৌপ্য পদক ভারোত্তোলনে ভারতের সপ্তম পদক। এর আগে ভারতীয় ভারোত্তোলকরা বিভিন্ন ওজন বিভাগে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। বিশেষ করে মণিপুরের খেলোয়াড়রা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক এনে এই ইভেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন।

ভারতের মহিলা বক্সার প্রীতি পাওয়ার ও প্রিয়া ঘাংঘাস নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে উঠেছেন। পুরুষদের বিভাগে জাদুমণিও জয় পেয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসের নিয়ম অনুযায়ী বক্সিংয়ে সেমিফাইনালে ওঠা সব খেলোয়াড় অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। ফলে ভারতের তিনটি পদক ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। তিনজনই এখন স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে রয়েছেন।

অ্যাথলেটিক্সে বিশাল টি কে পুরুষদের ৪০০ মিটার দৌড়ে নিজের হিটে দ্বিতীয় হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন। তবে রাজেশ রমেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেননি। সাঁতারে শ্রীহরি নটরাজ পুরুষদের ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকের সেমিফাইনালে উঠেছেন। অন্যদিকে সাজন প্রকাশ ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে পরবর্তী পর্বে যেতে পারেননি। প্যারা সাঁতারে কার্তিক বুদিগিনা ও আলি ইমাম পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল এস-১৩ বিভাগের ফাইনালে উঠেছেন।

মহিলাদের ৬৩ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে নিরুপমা দেবী ভালো পারফরম্যান্স করলেও পদক জিততে পারেননি। স্ন্যাচে তিনি পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। তবে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তিনটি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হওয়ায় তিনি প্রতিযোগিতা শেষ করতে পারেননি।

ভারত এখন পর্যন্ত মোট ১২টি পদক জিতেছে, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণপদকসহ একাধিক রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ রয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের ভালো পারফরম্যান্সের কারণে ভারত পদক তালিকায় নবম স্থানে নেমে গেছে। সর্বাধিক স্বর্ণপদক নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে রয়েছে। বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা সাঁতার এবং অন্যান্য ইভেন্টে ভারতের আরও পদকের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

Leave a comment