ট্রেনে যাতায়াতের সময় পরিষ্কার কামরা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং সময়মতো পরিষেবা পাওয়া যাত্রীদের অন্যতম প্রধান চাহিদা। সেই কথা মাথায় রেখে এবার প্রযুক্তির সাহায্যে অন-বোর্ড পরিষেবা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নিল ভারতীয় রেল। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অধীনে নির্বাচিত পাঁচটি সুপারফাস্ট ট্রেনে চালু হয়েছে এই বিশেষ ব্যবস্থা। ডিজিটাল নজরদারি থেকে শুরু করে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি—একাধিক সুবিধা যুক্ত হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
![]()
কোন পাঁচটি ট্রেনে চালু হল নতুন পরিষেবা?
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের উদ্যোগে পাঁচটি সুপারফাস্ট ট্রেনে প্রযুক্তিনির্ভর অন-বোর্ড পরিষেবা চালু করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে দুটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, একটি গরিব রথ এক্সপ্রেস এবং দুটি দূরপাল্লার সুপারফাস্ট ট্রেন।
ট্রেনগুলির তালিকা ও নম্বর নিচে দেওয়া হল।
- কামাখ্যা–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস: ১২৫৫২/১২৫৫১
- গুয়াহাটি–কলকাতা গরিব রথ এক্সপ্রেস: ১২৫১৮/১২৫১৭
- ডিব্রুগড়–মুম্বই এলটিটি এক্সপ্রেস: ১৫৯৪৬/১৫৯৪৫
- নিউ জলপাইগুড়ি–পটনা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস: ২২২৩৩/২২২৩৪
- নিউ জলপাইগুড়ি–গুয়াহাটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস: ২২২২৭/২২২২৮
এই পরিষেবা চালুর মাধ্যমে ট্রেনের ভিতরে পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল।
কবে থেকে চালু হয়েছে এই পরিষেবা?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গুয়াহাটি–কলকাতা গরিব রথ এক্সপ্রেসে ১০ অক্টোবর ২০২৬ এবং ডিব্রুগড়–মুম্বই এলটিটি এক্সপ্রেসে ১১ অক্টোবর থেকে উন্নত অন-বোর্ড পরিষেবা চালু হয়।অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চলাচলকারী দুটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং কামাখ্যা–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসে এই পরিষেবা চালু করা হয়। রেল আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলিতে নতুন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
ট্রেনের কামরা ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল ট্রেনের কামরা ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপরও জোর দেওয়া হবে।এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো বিছানার চাদর-সহ প্রয়োজনীয় লিনেন সরবরাহ এবং ব্যবহারের পরে তা সংগ্রহ করার ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে।এর ফলে দীর্ঘপথের যাত্রীদের যাত্রা আরও আরামদায়ক হবে বলে আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
![]()
অভিযোগ জানালে দুই ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের লক্ষ্য
নতুন পরিষেবার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা। ট্রেনে বিশেষ কর্মীদল প্রাথমিক কারিগরি সহায়তা দেবে, পাশাপাশি কামরায় জলের সরবরাহ ঠিক রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখবে।রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীদের অভিযোগ দুই ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। কোনও অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেটানো সম্ভব না হলে তা সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং পরিষেবার প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল নজরদারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
পরিষেবার মান বজায় রাখতে প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হবে। নতুন ব্যবস্থায় থাকছে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ, জিও-ট্যাগের মাধ্যমে পরিষেবা যাচাই, কর্মীদের কাজের উপর নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।এ ছাড়া যাত্রীরা তাৎক্ষণিক মতামত জানাতে পারবেন এবং স্টার রেটিংয়ের মাধ্যমে পরিষেবার মান সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা মূল্যায়নের সাহায্যে পরিষেবার মান যাচাই করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।এই প্রযুক্তিগুলির সাহায্যে কোথায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে বা কোন পরিষেবায় উন্নতি প্রয়োজন, তা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যাত্রীদের জন্য কতটা উপকারী হবে এই উদ্যোগ?
দূরপাল্লার ট্রেনে যাতায়াতের সময় পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জলের প্রাপ্যতা এবং দ্রুত সহায়তা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রায় শৌচাগার পরিষ্কার রাখা এবং সময়মতো লিনেন সরবরাহ করা যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।নতুন পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা থাকায় পরিষেবার মান আরও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার বাস্তব সুফল কতটা মিলছে, তা নির্ভর করবে ট্রেনগুলিতে পরিষেবার ধারাবাহিক বাস্তবায়নের উপর।
![]()
যাত্রীদের ভ্রমণ আরও পরিষ্কার, আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে পাঁচটি সুপারফাস্ট ট্রেনে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অন-বোর্ড পরিষেবা চালু করেছে ভারতীয় রেলের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। এই তালিকায় রয়েছে দুটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, গরিব রথ এক্সপ্রেস-সহ মোট পাঁচটি ট্রেন। নতুন ব্যবস্থায় কোচ ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জল সরবরাহ এবং বিছানার চাদর বা লিনেন দেওয়া-নেওয়ার উপর বিশেষ নজর রাখা হবে। পাশাপাশি, যাত্রীদের অভিযোগ দুই ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যমাত্রাও নেওয়া হয়েছে।










