ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন সেনসেক্স ৯১০ পয়েন্ট ও নিফটি ২৩৮৯৪-এর নিচে

বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়, যেখানে সেনসেক্স ৯১০ পয়েন্ট এবং নিফটি ২৩৮৯৪-এর নিচে নেমে আসে। কাঁচা তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের দুর্বল সংকেত এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রাপ্ত দুর্বল সংকেত এবং কাঁচা তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধির প্রভাবে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়।

সকালের লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং প্রধান সূচকগুলিতে পতন লক্ষ্য করা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। প্রাথমিক ওঠানামার পর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সেশনের শুরুতে চাপ বজায় ছিল।

বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক বিএসই সেনসেক্স প্রায় ৯১০ পয়েন্ট বা ১.৪৭ শতাংশ কমে ৭৬,৫৮৬ স্তরে নেমে আসে। একই সময়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ৫০ প্রায় ২৮২ পয়েন্ট বা ১.১৭ শতাংশ কমে ২৩,৮৯৪-এর নিচে নেমে যায়। এর ফলে নিফটি আবারও ২৪,০০০-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে অবস্থান করে।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন সেনসেক্স ৯১০ পয়েন্ট ও নিফটি ২৩৮৯৪-এর নিচে

লেনদেন চলাকালীন প্রায় ১,৩৭১টি শেয়ারের দাম কমে যায়, ৮৭৩টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী থাকে এবং ১৩৭টি শেয়ার অপরিবর্তিত থাকে। ব্যাংকিং, আইটি এবং অটো খাতে সর্বাধিক চাপ লক্ষ্য করা যায়, যা বাজারে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে সীমিত করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দামের বৃদ্ধি এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কাঁচা তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

কাঁচা তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ এবং কোম্পানিগুলির ব্যয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই কারণগুলির প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক বিক্রির পথে হাঁটেন। পাশাপাশি, মার্কিন এবং এশীয় বাজার থেকে প্রাপ্ত দুর্বল সংকেতও ভারতীয় বাজারকে প্রভাবিত করেছে। বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের নীতি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।

 

Leave a comment