মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে দুবাই, মাস্কাট এবং আবুধাবি থেকে দেশে ফিরছেন বহু ভারতীয় নাগরিক। যুদ্ধের আশঙ্কা, বিমান চলাচলের বিঘ্ন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানো কয়েকদিনের পর স্বদেশে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তাঁরা। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অনেকেই বলছেন—“ভারতের মতো নিরাপদ স্থান আর কোথাও নেই।”

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা, উদ্বেগে প্রবাসী ভারতীয়রা
ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে ওঠে। দুবাই বা আশপাশের শহরে ভ্রমণ বা কর্মসূত্রে থাকা বহু ভারতীয় হঠাৎই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। আকাশপথে সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে অনেক যাত্রীর ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়। ফলে অনেকেই কয়েকদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে অপেক্ষা করেন নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগের জন্য।
দিল্লি বিমানবন্দরে আবেগঘন পুনর্মিলন
নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসা যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের মিশ্র ছবি দেখা যায়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্তটি অনেকের কাছেই ছিল বিশেষ। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, বিদেশে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও যুদ্ধের আশঙ্কা তাঁদের মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রেখেছিল।

ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে বিপাকে যাত্রীরা
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার জেরে দিল্লি বিমানবন্দরে টানা কয়েকদিন বিমান চলাচলে বড়সড় প্রভাব পড়ে। অন্তত ৮০টি ফ্লাইট বাতিল এবং ২০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় বলে জানা গেছে। আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ৩০০-এর বেশি অস্থায়ী প্রবেশ অনুমতি জারি করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তথ্যকেন্দ্র ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে।
ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক
সাকেতের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী আকাশ সাক্সেনা জানান, তিনি যখন প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলেন, তখন ভীষণ ভয় পেয়ে যান। সেই সময় তিনি ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। যদিও তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবুও তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে স্বদেশে ফিরে আসাই ছিল সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের অপেক্ষা
অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, দেশে ফিরে তাঁরা এবার পরিবারের সঙ্গে হোলি এবং আসন্ন ঈদ উদযাপন করবেন। গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা অংশিকা জানান, তাঁর স্বামী দুবাই থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দিল্লি ফিরে আসেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ের পর এটাই তাঁদের প্রথম হোলি, তাই স্বামীর নিরাপদে ফিরে আসা তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে দুবাই, মাস্কাট ও আবুধাবি থেকে ভারতে ফিরছেন বহু ভারতীয়। দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছে অনেকেই বলছেন, যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বদেশে ফিরে পাওয়া নিরাপত্তার অনুভূতি অন্যরকম। পরিবারের সঙ্গে আবার মিলিত হয়ে হোলি ও ঈদের উৎসব উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।









