সেলিব্রিটি থেকে ফিটনেস অনুরাগী—ওজন কমানোর সহজ উপায় হিসেবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা সেই ধারণায় প্রশ্নচিহ্ন ফেলেছে। গবেষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর সময়সীমাভিত্তিক উপবাস মেনে চললে হৃদরোগ সংক্রান্ত ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
কী এই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং?
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা সবিরাম উপবাস এমন একটি খাদ্যাভ্যাস যেখানে কী খাওয়া হচ্ছে তার চেয়ে কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটির উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হল ১৬:৮ মডেল। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ঘণ্টা খাবার খাওয়া হয় এবং বাকি ১৬ ঘণ্টা উপবাস পালন করা হয়। এছাড়া ৫:২ পদ্ধতিতেও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলিতে ক্যালোরি গ্রহণ সীমিত রাখা হয়।
গবেষণায় কী দাবি করা হয়েছে?
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় প্রায় ১৯ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।গবেষণাটি ২০২৪ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। গবেষকদের মতে, সীমিত সময়ে খাবার গ্রহণের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সুবিধা সবসময় নাও দিতে পারে।
তবে গবেষণা নিয়ে রয়েছে বিতর্কও
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক হওয়ায় সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। অর্থাৎ শুধুমাত্র ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের জন্যই মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও সম্ভব নয়।অনেক গবেষণাতেই আবার দেখা গেছে, সঠিক পদ্ধতিতে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে অনেকের মধ্যে মাথাব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, জলশূন্যতা এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অন্য দীর্ঘস্থায়ী অসুখ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব সীমিত সময়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।যদি খাদ্যতালিকা সুষম না হয়, তাহলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, পেশিশক্তি হ্রাস পাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
সবার জন্য উপযুক্ত নয় এই ডায়েট
গর্ভবতী মহিলা, কিশোর-কিশোরী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং যাঁদের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।কারণ প্রত্যেক মানুষের শরীর, জীবনযাত্রা এবং পুষ্টির চাহিদা এক নয়। তাই এক ব্যক্তির জন্য কার্যকর পদ্ধতি অন্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কী?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ওজন কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কোনও ডায়েট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলিও সুস্থ ওজন বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন কমানো ও ফিটনেস বজায় রাখার জনপ্রিয় পদ্ধতি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (IF) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণের অভ্যাস হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।













