লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলোর ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে, যেখানে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সিজফায়ার ঘোষণা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোতে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু এবং শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
লেবাননে ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান জোরদার করে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১২ জন নিহত হয়েছেন, এবং ৮০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে, এই অভিযান একটি বৃহৎ ও সমন্বিত অপারেশনের অংশ, যেখানে বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সিজফায়ারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
![]()
IDF-এর মতে, ‘রোরিং লায়ন’ অপারেশনের অধীনে এখন পর্যন্ত ১০০-র বেশি হিজবুল্লাহ কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে ইন্টেলিজেন্স সেন্টার, মিসাইল সিস্টেম, নৌ অবকাঠামো এবং রাডওয়ান ফোর্সের ঘাঁটিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলাগুলো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক সপ্তাহের পরিকল্পনার পর চালানো হয়েছে। সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইযাল জামির জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
এই হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে। এতে জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।









