যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব বিতর্ক ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে আপাতত ক্যাম্পাসে না আসার সুপারিশ করল রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এই ইস্যুতে উপাচার্য-সহ শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে কমিশন।
দুই ঘণ্টার বৈঠকে কী আলোচনা
সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরানের নেতৃত্বে কমিশনের প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছন। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য, সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত এবং রেজিস্ট্রারের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন তাঁরা। ওই বৈঠকে হিজাব বিতর্ক ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তদন্তের স্বার্থে ক্যাম্পাসে না আসার প্রস্তাব
বৈঠক শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, সংশ্লিষ্ট ছাত্রী ও অন্যান্য পড়ুয়াদের বক্তব্য শুনে তাঁদের প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। সেই কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও পক্ষপাতের অভিযোগ যাতে না ওঠে, তার জন্য ইংরেজি বিভাগের প্রধানকে তদন্ত চলাকালীন ক্যাম্পাসে না আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তিন সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদার কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই লিখিতভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ছাত্র সংগঠনের স্মারকলিপি ও বাড়তি দাবি
এই দিন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তরফে সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, শুধু তদন্তই নয়—ইনভিজিলেশন ও ইভ্যালুয়েশন সিস্টেম থেকেও বিভাগীয় প্রধানকে সরানো হোক। পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে পড়ুয়াদের জানানো উচিত বলেও দাবি ওঠে।
শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই প্রসঙ্গে বলেন, “এই রাজ্যে কারও মৌলিক অধিকার খর্ব করা যাবে না। প্রত্যেকে নিজের ধর্মীয় আচরণ পালনের অধিকার রাখে।” তবে বিভাগীয় প্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, সংখ্যালঘু কমিশন যে রিপোর্ট দেবে, তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব সংক্রান্ত বিতর্কে উত্তেজনার মধ্যেই তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে আপাতত ক্যাম্পাসে না আসার প্রস্তাব দিল রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।











