জয়পুরে আইটি সংস্থার ২ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত জিতেন্দ্র জৈন গ্রেফতার

জয়পুরে একটি আইটি সংস্থার সঙ্গে জড়িত প্রায় ২ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি, ডেটা চুরি এবং ভুয়া কোম্পানি গঠনের মামলায় অভিযুক্ত জিতেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলায় বিদেশি অর্থ লেনদেন, ক্লায়েন্ট তথ্যের অপব্যবহার এবং আইটি অ্যাক্টসহ একাধিক ধারায় তদন্ত চলছে।

 বহুল আলোচিত একটি আইটি জালিয়াতি মামলায় পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। মামলাটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি, ডেটা চুরি এবং ভুয়া কোম্পানি তৈরি করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত।

মালভিয়া নগর থানার পুলিশ অভিযুক্ত জিতেন্দ্র জৈনকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। আদালত তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। মামলার আরও দুই অভিযুক্ত সন্দীপ আগরওয়াল ও অজিত জৈন বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগকারী অরুণ গোয়েল পুলিশের কাছে দায়ের করা রিপোর্টে দাবি করেছেন, তার আইটি সংস্থার প্রাক্তন কর্মীরা বিশ্বাসের অপব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন এবং সংস্থার গোপন ডেটা, সফটওয়্যার সিস্টেম ও ক্লায়েন্ট নেটওয়ার্কে বিশেষ প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা একই ধরনের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করে।

পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তরা “ইনভেন্ট কোলেপ্স ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড” নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সংস্থায় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের পরিচালক হিসেবে দেখিয়ে “ডামি ডিরেক্টর” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, মূল সংস্থার গ্রাহক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

এফআইআরের অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মূল সংস্থার গোপন সফটওয়্যার, প্রযুক্তিগত ডেটা ও ক্লায়েন্ট তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে নতুন সংস্থার কাজে ব্যবহার করেছে।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে নতুন সংস্থার অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান করতে উৎসাহিত করেছিল।

এই কথিত ষড়যন্ত্রের ফলে সংস্থার প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

মামলায় আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক বিদেশি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করানো হয়।

জয়পুরে আইটি সংস্থার ২ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত জিতেন্দ্র জৈন গ্রেফতার

পুলিশের আশঙ্কা, ভুয়া নথি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে এই লেনদেন করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, এই নেটওয়ার্কে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলের অপব্যবহার করা হয়েছে কি না।

অভিযোগকারী অরুণ গোয়েল আরও দাবি করেছেন, তিনি যখন অভিযুক্তদের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে যোগাযোগ করেন, তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশ এই অভিযোগগুলিকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ডিজিটাল যোগাযোগের রেকর্ড, কল ডিটেলস ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মালভিয়া নগর থানার পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি আইন (আইটি অ্যাক্ট) সহ বিভিন্ন ফৌজদারি ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, মামলায় সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি, ডেটা চুরি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং জালিয়াতির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ইলেকট্রনিক ডেটা ও সার্ভার রেকর্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত জিতেন্দ্র জৈনকে আদালতে পেশ করা হয়। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে পলাতক অভিযুক্ত সন্দীপ আগরওয়াল ও অজিত জৈনের খোঁজে পুলিশ ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনকেই দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনা কর্পোরেট ক্ষেত্রে বাড়তে থাকা “ইনসাইডার ফ্রড” এবং ডেটা সুরক্ষা ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইটি সংস্থার কর্মীদের কাছে প্রায়ই সংবেদনশীল গ্রাহক তথ্য, সফটওয়্যার সিস্টেম ও আর্থিক তথ্যের প্রবেশাধিকার থাকে। নিরাপত্তা প্রোটোকল শক্তিশালী না হলে এ ধরনের ঘটনা সংস্থাগুলির জন্য বড় আর্থিক ও সুনামের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জয়পুরে সামনে আসা এই ঘটনায় ডেটা সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্থাগুলিকে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও কর্মী যাচাই প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এছাড়া আর্থিক লেনদেন ও ক্লায়েন্ট যোগাযোগের নিয়মিত পর্যবেক্ষণও এ ধরনের ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

Leave a comment