জলপাইগুড়ির জঙ্গল লাগোয়া চা বাগান এলাকায় ফের লেপার্ড আতঙ্ক। শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই বনদফতর বাড়তি সতর্কতায়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে লেপার্ডের গতিবিধি নজরে রাখতে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি শুরু হয়েছে।
লেপার্ডের আনাগোনা বাড়তেই উদ্বেগ চা বাগান এলাকায়
বিগত কয়েক মাস ধরে জলপাইগুড়ির কলাবাড়ি-সহ একাধিক জঙ্গলঘেঁষা চা বাগানে লেপার্ডের আনাগোনা বেড়েছে। এর জেরে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে শিশুর উপর হামলার ঘটনাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
হামলার ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা
সম্প্রতি কলাবাড়ি চা বাগানে লেপার্ডের হামলায় এক শিশু আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এর আগেও একই এলাকায় লেপার্ডের আক্রমণে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, যা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ড্রোনে নজরদারি, চিহ্নিত হচ্ছে প্রবেশপথ
লেপার্ড কোন পথ ধরে জঙ্গল ছেড়ে চা বাগান পেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকছে, তা নির্দিষ্ট করতেই ড্রোন ব্যবহার শুরু হয়েছে। ড্রোনে ধরা পড়েছে পাহাড়ি ঝোরা ও জঙ্গল পথ—প্রাথমিক অনুমান, এই পথ ধরেই লেপার্ড ঢুকছে লোকালয়ে।
বাঁশের বেড়া ও ফেন্সিংয়ের পরিকল্পনা
এর আগে সুন্দরবনের আদলে নেট ফেন্সিং বসানো হয়েছিল। এবার আরও কার্যকরভাবে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় উঁচু বাঁশের বেড়া বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে ঢোকা রোখা যায়।
বনকর্মীদের টহল ও সচেতনতামূলক প্রচার
ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি বনকর্মীরা পায়ে হেঁটে এলাকায় টহল দিচ্ছেন। গরুমারার ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
জলপাইগুড়ির জঙ্গল সংলগ্ন চা বাগান এলাকায় লেপার্ডের বাড়বাড়ন্তে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে বনদফতর। সম্ভাব্য প্রবেশপথ চিহ্নিত করে লোকালয় সুরক্ষিত রাখাই মূল লক্ষ্য।












