যে স্কুল চত্বরে প্রতিদিন খুদে পড়ুয়াদের প্রার্থনা ও পড়াশোনায় মুখর থাকার কথা, সেখানেই রাতের অন্ধকারে বসছে নেশার আসর—এমনই অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়িতে। সকালে স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষিকা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নাকি প্রথমেই করতে হচ্ছে মদের বোতল, ডিসপোজেবল গ্লাস, মাংসের হাড় ও অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
কোন স্কুলকে ঘিরে অভিযোগ?
ঘটনাটি জলপাইগুড়ি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু নগর আরআর-২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, দিনের বেলায় এই স্কুলে স্বাভাবিকভাবেই চলে পড়াশোনা। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, স্কুলের বাগান, বারান্দা এবং শ্রেণিকক্ষ সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগতরা ঢুকে আড্ডা জমায়।
রাতের আড্ডার পর সকালে আবর্জনার স্তূপ
অভিযোগ, রাতের আড্ডায় মদ্যপানের পাশাপাশি চলে খাওয়াদাওয়াও। ফলে পরদিন সকালে স্কুল খুলতেই চত্বরে পড়ে থাকে খালি মদের বোতল, ডিসপোজেবল গ্লাস, মাংসের হাড়, চানাচুরের প্যাকেট-সহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা।পড়ুয়াদের ক্লাসে বসানোর আগে সেই নোংরা পরিষ্কার করতে হয় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তারপরই শুরু হয় প্রার্থনা ও পঠনপাঠন।
প্রধান শিক্ষিকার ক্ষোভ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গীতা রায় সান্যালের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের। সকালে স্কুলে এসে আবর্জনা পরিষ্কার না করলে পড়ুয়াদের স্বাভাবিকভাবে বসানো সম্ভব হয় না বলেও তিনি জানান।তাঁর দাবি, বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর এবং পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
স্কুলের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চত্বরে রাতের বেলায় এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ চলতে থাকলে স্কুলের পরিবেশ এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তা—দুইই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।স্থানীয়দের দাবি, রাতের সময় স্কুল চত্বরে নজরদারি বাড়ানো হোক এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হোক।
কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।এখন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর পুলিশের পদক্ষেপের দিকে। স্কুল চত্বরে রাতের বেলায় বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
জলপাইগুড়ির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা শুরু হয়। সেখানে মদ্যপান ও খাওয়াদাওয়ার পর ফেলে যাওয়া খালি বোতল, গ্লাস, মাংসের হাড়-সহ আবর্জনা পরদিন সকালে পরিষ্কার করতে হয় শিক্ষকদেরই। এরপরই শুরু হয় পড়ুয়াদের পঠনপাঠন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।











