জল্পেশ মন্দিরের ভোলবদল শীঘ্রই! পুজো দিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, খুশি ভক্তরা

উত্তরবঙ্গ সফরে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুষ্পবৃষ্টি ও বিশেষ অভ্যর্থনার পর মন্দিরের পরিকাঠামো ও উন্নয়নে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা।

উত্তরবঙ্গ সফরে প্রশাসনিক কর্মসূচির ফাঁকেই আধ্যাত্মিক আবহে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। জলপাইগুড়ির ঐতিহাসিক জল্পেশ মন্দিরে পৌঁছে মহাদেবের পুজো দেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে মন্দির চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন বহু ভক্ত ও পুণ্যার্থী। মুখ্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। পাশাপাশি বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও তাঁকে বিশেষভাবে বরণ করে নেন। পুজো শেষে জল্পেশ মন্দিরের উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশাসনিক কর্মসূচির পর জল্পেশের পথে মুখ্যমন্ত্রী

উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের দফতরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই পর্ব শেষ করে সড়কপথে ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।এর আগে সিকিমের টানেল বিপর্যয়ে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়ার কর্মসূচিতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী।

পুষ্পবৃষ্টিতে মুখর জল্পেশ মন্দির চত্বর

নির্ধারিত সময়েই জল্পেশ মন্দিরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সেখানে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। মন্দিরে উপস্থিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়। আকাশ থেকে ঝরে পড়া ফুলের পাপড়িতে মন্দির চত্বরের পরিবেশ আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে।মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও। তাঁরা বিশেষ সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করে নেন। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুশল বিনিময় করেন।

মহাদেবের পুজো দিয়ে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা

মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে জল্পেশ মন্দিরের একটি ফটোফ্রেম তুলে দেওয়া হয়। এরপর তিনি মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে মহাদেবের পুজো দেন।

প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মন্দিরে অবস্থান করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর সময় তিনি রাজ্যবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন বলে জানা গিয়েছে।

জল্পেশ মন্দিরের উন্নয়নে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা

পুজো শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক জল্পেশ মন্দিরের আরও উন্নয়নে রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মন্দিরের পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি ভক্ত ও স্থানীয়রা।জল্পেশ মন্দির উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। ফলে মন্দিরের উন্নয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সুবিধা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

নিরাপত্তায় সাময়িকভাবে বন্ধ ভক্তদের প্রবেশ

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কারণে তিনি মন্দিরে অবস্থান করার সময় কিছুক্ষণের জন্য ভক্তদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাঁর কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।জল্পেশ মন্দিরের অস্থায়ী হেলিপ্যাড থেকে পরে হেলিকপ্টারে উত্তরকন্যার উদ্দেশে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর আরও একাধিক কর্মসূচি ছিল।

জনসংযোগেও নজর কাড়ল উত্তরবঙ্গ সফর

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জল্পেশ মন্দিরে পুজো দেওয়া, ভক্তদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তাঁর সফরে জনসংযোগের ছবিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।জল্পেশ মন্দিরের উন্নয়নের ঘোষণাকে ঘিরে এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় মানুষ ও ভক্তরা। আগামী দিনে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

উত্তরবঙ্গ সফরে ময়নাগুড়ির ঐতিহাসিক জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ঘিরে মন্দির চত্বরে দেখা যায় উৎসবের আবহ। হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি এবং বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুজো শেষে জল্পেশ মন্দিরের পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নে রাজ্য সরকারের তরফে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a comment