আজ যাকে আমরা জঙ্গিপুর নামে চিনি, তারই প্রাচীন নাম ছিল ‘জাহাঙ্গীরপুর’। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর পূর্বভারতে অবস্থানকালে ভাগীরথীর তীরে শিবির স্থাপন করলে এই অঞ্চলের নামকরণ হয় তাঁর নামানুসারে। সময়ের সঙ্গে উচ্চারণ বদলে ‘জাহাঙ্গীরপুর’ হয়ে যায় ‘জঙ্গিপুর’।
নামের ইতিহাস: জাহাঙ্গীরপুর থেকে জঙ্গিপুর
বর্তমান জঙ্গিপুর একসময় পরিচিত ছিল ‘জাহাঙ্গীরপুর’ নামে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সফর এবং প্রশাসনিক উপস্থিতির কারণেই এই নামকরণ বলে ঐতিহাসিকদের মত। পরবর্তী সময়ে কথ্য ভাষার পরিবর্তনে নাম সংক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়ায় জঙ্গিপুর। যেমন ঔরঙ্গজেবের নাম থেকে ঔরঙ্গাবাদ বা ফারুক শেয়ারের নাম থেকে ফরক্কাবাদ হয়েছে, তেমনই জাহাঙ্গীরপুর থেকে জঙ্গিপুর।
রেশম শিল্পে আন্তর্জাতিক খ্যাতি
১৮০২ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে এক ইংরেজ অভিজাত জঙ্গিপুরকে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শ্রেষ্ঠ রেশম কেন্দ্র’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই সময় শতাধিক ফার্নেসে রেশম প্রক্রিয়াকরণ চলত এবং হাজার হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশের বালুচর ও মীর্জাপুর অঞ্চলের তাঁতশিল্প ইউরোপ পর্যন্ত রফতানি হত।
East India Company-এর বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে জঙ্গিপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
রাজনীতি, সাম্রাজ্য ও সংঘর্ষের সাক্ষী
জঙ্গিপুর শুধু বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল না, ছিল একাধিক সাম্রাজ্যের দৃষ্টি-কেন্দ্র। গুপ্ত, সেন, পাঠান ও মুঘল আমলে এই অঞ্চল ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই অবস্থিত মুর্শিদাবাদ একসময় বাংলার রাজধানী ছিল। ফলে প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
পর্তুগিজ, মগ ও বর্গিদের আক্রমণ, বিভিন্ন বিদ্রোহ—সবকিছুরই সাক্ষী থেকেছে এই জনপদ।
বিদ্রোহ ও সামাজিক আন্দোলনের ভূমি
ওহাবি আন্দোলন, নীল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহের মতো ঐতিহাসিক আন্দোলন এই অঞ্চলে প্রভাব ফেলেছিল। নদীপথে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের আগমন ঘটে, যার ফলে রাঢ় ও বাগড়ির সাংস্কৃতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়।
জঙ্গিপুর তাই শুধু একটি শহর নয়—এটি বহুসাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর শহরের প্রাচীন নাম ছিল ‘জাহাঙ্গীরপুর’। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারেই এই নামকরণ। ইতিহাসের ধারায় জাহাঙ্গীরপুর থেকেই সংক্ষেপে জঙ্গিপুর নামের উৎপত্তি। বাণিজ্য, রেশমশিল্প ও বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে জঙ্গিপুর এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জনপদ।













