পূর্ব মেদিনীপুর: স্কুলে দুপুরের খাবার মানেই সাধারণত ভাত, ডাল, সবজি কিংবা ডিম। কিন্তু উৎসবের দিনে সেই চেনা মেনুতে এল একেবারে অন্যরকম স্বাদ। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের তেরপেখ্যা স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের জন্য আয়োজন করা হল বিশেষ মিড ডে মিল। পাতে ভাত-তরকারির সঙ্গে মিলল পায়েস ও মিষ্টি। স্বাভাবিকভাবেই এমন ‘মিষ্টি চমক’ পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে খুদেরা।
জন্মাষ্টমীতে বদলে গেল মিড ডে মিলের মেনু
সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতে নির্দিষ্ট মেনু মেনেই সাধারণত মিড ডে মিল পরিবেশন করা হয়। ভাত, ডাল, সবজি বা ডিম থাকে নিয়মিত খাবারের তালিকায়। তবে বিশেষ দিনগুলিতে পড়ুয়াদের উৎসাহ বাড়াতে মেনুতে কিছুটা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তেরপেখ্যা স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়েও সেই উদ্যোগ দেখা গেল। দুপুরের খাবারে নিয়মিত পদগুলির পাশাপাশি যোগ হল পায়েস এবং মিষ্টি। উৎসবের আবহে সহপাঠীদের সঙ্গে বসে এমন খাবার খেতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত পড়ুয়ারা।
শুধু পেট ভরানো নয়, উৎসাহ বাড়ানোও লক্ষ্য
স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, দুপুরের খাবারে মাঝেমধ্যে বিশেষ পদ রাখলে পড়ুয়াদের মধ্যে স্কুলে আসার আগ্রহ বাড়ে। প্রতিদিনের পরিচিত খাবারের বদলে উৎসবের দিনে নতুন কোনও পদ পেলে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি হয়।স্কুলের দাবি, এই ধরনের উদ্যোগের ফলে পড়ুয়াদের উপস্থিতিও বাড়ছে। স্কুলমুখী করার পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরিতেও এমন পরিবেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশুদের মানসিক তৃপ্তিতেও গুরুত্ব
শিক্ষকদের মতে, শিশুদের জন্য খাবারের বৈচিত্র্য শুধু স্বাদের পরিবর্তন নয়। উৎসবের দিন একসঙ্গে বসে বিশেষ খাবার খাওয়ার মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি সামাজিক মেলবন্ধনের সুযোগও তৈরি হয়।সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে উৎসবের আমেজে খাওয়াদাওয়া শিশুদের মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে। পাশাপাশি স্কুলের পরিবেশও হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়।
মিড ডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মিড ডে মিলের খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়াদের পাতে খাবারের বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।মহিষাদলের এই স্কুলের বিশেষ আয়োজনও সেই ভাবনারই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জন্মাষ্টমীর আগে আরও এক স্কুলে ‘তাল উৎসব’
জন্মাষ্টমীর আগে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের শিবদা নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়েও দেখা গিয়েছিল এমনই অভিনব উদ্যোগ। সেখানে সাধারণ মিড ডে মিলের মেনুর বদলে পড়ুয়াদের জন্য আয়োজন করা হয় ‘তাল উৎসব’।তালের মরশুমকে কাজে লাগিয়ে পড়ুয়াদের খাওয়ানো হয় তালের লুচি, তালের ফুলুরি ও তালের বড়া। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের নানা পদ সম্পর্কে শিশুদের পরিচিত করানোই ছিল সেই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।স্কুলের মিড ডে মিলের রান্নার দায়িত্বে থাকা চারজন কর্মী নিজেরাই ওই পদগুলি তৈরি করেছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো এই স্কুলে মাঝেমধ্যেই দুপুরের খাবারের মেনুতে স্থানীয় ও মরশুমি খাবার রাখার চেষ্টা করা হয় বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের তেরপেখ্যা স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলে রাখা হল বিশেষ মেনু। প্রতিদিনের ভাত, ডাল ও তরকারির পাশাপাশি পড়ুয়াদের পাতে দেওয়া হয়েছে পায়েস ও মিষ্টি। এমন আয়োজন পেয়ে খুশি স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা।












