বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী এবং সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভা সদস্য জয়া বচ্চন আবারও তাঁর স্পষ্টভাষী মন্তব্যের কারণে শিরোনামে এসেছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি সংসদের উচ্চ শব্দস্তর (noise level) নিয়ে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নয়াদিল্লি: বলিউডের সম্মানিত অভিনেত্রী এবং সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভা সদস্য জয়া বচ্চন প্রায়শই তাঁর মন্তব্যের কারণে শিরোনামে থাকেন, বিশেষত মিডিয়া এবং ফটোগ্রাফারদের নিয়ে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি হালকা মেজাজে প্রকাশ করেছেন যে তিনি কানে কিছুটা কম শুনতে পান, কারণ সংসদে প্রতিদিন এত চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে হয়। তিনি বলেন, "ঈশ্বরের ধন্যবাদ যে মস্তিষ্ক হারাইনি, শুধু শুনতে একটু কম পাই।"
একই কথোপকথনে জয়া বচ্চন মিডিয়া এবং পাপারাজ্জি সম্পর্কেও তাঁর মতামত দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "আমি মিডিয়ারই অবদান, কিন্তু পাপারাজ্জির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এই লোকেরা কারা? দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কি তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে? আপনারা এদেরকে মিডিয়া বলেন? আমি মিডিয়া থেকে এসেছি, আমার বাবা একজন সাংবাদিক ছিলেন, এবং আমি আসল মিডিয়াকে খুব সম্মান করি।"
সংসদের কোলাহল প্রভাব ফেলছে
জয়া বচ্চন হালকা মেজাজে বলেন যে সংসদে প্রতিদিন যে গুরুতর বিতর্ক এবং চিৎকার হয়, তা তাঁর কানে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন:
'আমি কানে কিছুটা কম শুনতে পাচ্ছি, কারণ সংসদে প্রতিদিন এত চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে হয়। ঈশ্বরের ধন্যবাদ যে মস্তিষ্ক হারাইনি, শুধু শুনতে একটু কম পাই।'
এই মন্তব্য জয়ার সরলতা এবং স্পষ্টবাদিতাকে প্রকাশ করে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে বলেছেন যে কীভাবে সংসদের পরিবেশ কখনও কখনও অত্যন্ত চাপপূর্ণ এবং শ্রবণাতীত কোলাহলে পূর্ণ হয়ে ওঠে।
মিডিয়া এবং পাপারাজ্জি নিয়ে অসন্তোষ
![]()
সাক্ষাৎকারের সময় জয়া বচ্চন মিডিয়া এবং বিশেষত পাপারাজ্জিদেরও নিশানা করেন। তিনি বলেন যে তিনি মিডিয়ার আসল সত্তাকে (real essence) সম্মান করেন, কারণ তাঁর বাবা তরুণ কুমার ভাদুড়ী একজন সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু জয়ার বক্তব্য হলো, কিছু লোক যারা পাপারাজ্জি হিসেবে কাজ করে, তারা আসল মিডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে না। জয়া বলেন:
'আমি মিডিয়ারই অবদান, কিন্তু পাপারাজ্জির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এই লোকেরা কারা? দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কি তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে? আপনারা এদেরকে মিডিয়া বলেন?'
তিনি এও জোর দিয়ে বলেন যে অনেক পাপারাজ্জি "ড্রেন-পাইপের মতো নোংরা প্যান্ট পরে, হাতে মোবাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে" এবং বিশ্বাস করে যে মোবাইল থাকলেই তারা যে কারো ছবি তুলতে পারে এবং নিজেদের ইচ্ছামতো মন্তব্য করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
জয়া বচ্চনের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে যায়। কিছু লোক তাঁর সমর্থন করেন, আবার কেউ কেউ এটিকে নিয়ে হালকা ঠাট্টা করেন। এই প্রথম নয় যে জয়া বচ্চন পাপারাজ্জিদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে, এবার তাঁর পোশাক এবং আচরণ (clothing and behavior) নিয়ে করা মন্তব্যগুলি মিডিয়া এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অধিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
জয়া বচ্চন পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতাগুলি ভাগ করে নিয়ে এও জানান যে সংসদে বহুবার তাঁকে "জয়া অমিতাভ বচ্চন" বলার কারণে আপত্তি জানাতে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য হলো, তাঁর পরিচয় এবং সম্মান তাঁর ব্যক্তিগত যোগ্যতা (individual merit) এবং রাজনৈতিক অবদানের সাথে জড়িত, কেবল তাঁর স্বামী অমিতাভ বচ্চনের সাথে নয়। জয়া বচ্চন বলিউডে তাঁর সরলতা এবং শক্তিশালী অভিনয় দক্ষতা (powerful acting skills) দিয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। তাঁকে অনেক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।











