ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে এবং ১২ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মোট সাত কার্যদিবসের এই অধিবেশনে রাজ্য-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে ঘিরে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী দল।
রাঁচি থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনকে রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঝাড়খণ্ড লোক সেবা কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড কর্মচারী নির্বাচন কমিশন (JSSC)-এর পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের কারণে অধিবেশনজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও হট্টগোলের সম্ভাবনা রয়েছে।
৬ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই বর্ষাকালীন অধিবেশন মোট সাত কার্যদিবসের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। বিধানসভার কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ১১টায় শুরু হবে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে মতবিরোধের সম্ভাবনা থাকলেও নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং ছাত্র আন্দোলনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যে JPSC ও JSSC পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
ছাত্র সংগঠনগুলো বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন তাদের দাবিকে আরও জোরালো করার কৌশল নিয়েছে। একাধিক সংগঠন বিধানসভা ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন এই বিষয়টি সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে প্রধান সংঘাতের কারণ হতে পারে। বিরোধী দলগুলোও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে পারে।

অধিবেশন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাঁচি প্রশাসন বিধানসভা চত্বরের আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশাসন বিধানসভা ভবনের ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ধারা ১৬৩ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই আদেশ ৬ আগস্ট সকাল থেকে কার্যকর হয়ে ১২ আগস্ট রাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
প্রশাসনের বক্তব্য, বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঝাড়খণ্ড উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে প্রযোজ্য হবে না।
ধারা ১৬৩ অনুযায়ী, বিধানসভা চত্বরের নির্ধারিত এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া মিছিল, র্যালি, পদযাত্রা, ধর্না, বিক্ষোভ এবং জনসভা আয়োজনের অনুমতি থাকবে না।
প্রশাসন আগ্নেয়াস্ত্র বা যেকোনো ধরনের অস্ত্র, যেমন বন্দুক, রাইফেল, রিভলভার, বিস্ফোরক সামগ্রী, লাঠি বা অন্যান্য বিপজ্জনক বস্তু নিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাশাপাশি, অধিবেশনের কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব এড়াতে শব্দবর্ধক যন্ত্র ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
JPSC ও JSSC পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক ছাত্র সংগঠন গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, রাজ্যে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া উচিত, যাতে যুবসমাজের আস্থা বজায় থাকে। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো পরীক্ষা প্রক্রিয়ার পর্যালোচনা, জবাবদিহি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।






