বাঙালির রান্নাঘরে শিং-মাগুর-কই বা শোলের কদর কম নয়। ঝোল হোক কিংবা সর্ষে-মশলার রান্না—জিওল মাছের স্বাদই আলাদা। কিন্তু এই মাছ বাজার থেকে কেটে আনা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে বাড়িতেই পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। পিচ্ছিল মাছ হাতে ধরা কঠিন, আবার কোথাও ছোট আঁশ, কোথাও কালচে চামড়া পরিষ্কার করাও বেশ পরিশ্রমের। তার উপর শিং বা কইয়ের শক্ত কাঁটা হাতে ফুটে গেলে ব্যথাও হতে পারে। তাই জেনে নিন কয়েকটি সহজ পদ্ধতি।
নুন ও ভিনিগারে সহজে পরিষ্কার হবে শিং মাছ
শিং মাছ পরিষ্কার করার আগে প্রথমেই নিরাপদে মাছটি ধরার ব্যবস্থা করুন। প্রদত্ত পদ্ধতিতে মাছের উপর নুন দিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখার কথা বলা হয়েছে। এরপর কাঁটা, পাখনা ও ফুলকা সাবধানে কেটে পরিষ্কার করতে পারেন।তারপর মাছের সঙ্গে সামান্য নুন, হলুদ এবং ভিনিগার মিশিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দেওয়া যায়। পরে পরিষ্কার জল দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিলে মাছের গায়ের কালচে আবরণ অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
মাগুর মাছের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে কাঁচা পেঁপের খোসা
মাগুর মাছের গা পরিষ্কার করার জন্য কাঁচা পেঁপের খোসা ব্যবহার করার একটি ঘরোয়া পদ্ধতিও রয়েছে। প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে মাছ ধুয়ে নিন।কাঁচা পেঁপের খোসা ভালো করে বেটে বা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। সেটি মাছের গায়ে মাখিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট রেখে দিতে পারেন। এরপর হালকা হাতে পরিষ্কার করে আবার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
শোল মাছের ছোট আঁশ ছাড়াবেন কীভাবে?
শোল মাছের আঁশ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় পরিষ্কার করতে অনেকেরই সময় লাগে। মাছটি স্থির করে ধরে কোনও সমতল শক্ত জায়গায় আলতোভাবে ঘষে আঁশ তুলতে পারেন।চামচ বা ছুরির ভোঁতা দিক ব্যবহার করেও লেজের দিক থেকে মাথার দিকে ঘষে আঁশ ছাড়ানো যায়। তবে ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের দিকে টেনে কাজ করবেন না—হাতে কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কই মাছের আঁশ তুলতে নুন-লেবু বা ভিনিগার
কই মাছ পরিষ্কার করার আগে অল্প ভিনিগার মেশানো জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। এতে মাছের পিচ্ছিলভাব কিছুটা কমতে পারে এবং আঁশ পরিষ্কার করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।ভিনিগার না থাকলে নুন ও লেবুর রস দিয়ে মাছ কিছুক্ষণ মাখিয়ে রাখার পর চামচের সাহায্যে আঁশ তুলতে পারেন।
মাছ ধরার সময় হাত বাঁচানো সবচেয়ে জরুরি
জিওল মাছ পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত কাজ করলেই হবে না, হাতের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিং বা কই মাছ ধরার সময় পাখনা ও কাঁটার অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক থাকুনপিচ্ছিল মাছ ধরতে পরিষ্কার কাপড় বা উপযুক্ত রান্নাঘরের গ্লাভস ব্যবহার করা যেতে পারে। মাছের কাঁটা হাতে ফুটে গেলে জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন। তীব্র ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব বা অন্য কোনও সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পরিষ্কার করার পর মাছ ভালোভাবে ধুয়ে নিন
নুন, ভিনিগার, লেবু বা অন্য কোনও উপাদান ব্যবহার করার পর মাছ কয়েকবার পরিষ্কার জলে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। এরপর রান্নার আগে মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার হয়েছে কি না দেখে নিন।মাছ পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত বাটি, ছুরি, কাঁচি ও অন্যান্য সরঞ্জামও শেষে সাবান ও জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
শিং, মাগুর, কই বা শোলের মতো জিওল মাছ পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার। মাছের পিচ্ছিল গা, কালচে চামড়া এবং ছোট আঁশ পরিষ্কার করতে অনেক সময় লাগে। তার উপর কাঁটা বা পাখনা হাতে ফুটে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে নুন, ভিনিগার, লেবু বা কাঁচা পেঁপের খোসার মতো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে মাছ পরিষ্কারের কাজ কিছুটা সহজ করা যায়।













