জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় জামশেদপুরের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে দেব স্নান মহোৎসব পালিত, ১৫ দিনের অনবাসর পর্ব শুরু

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার ১০৮ কলসের পবিত্র জলে মহাস্নান, ৫৬ ভোগ নিবেদন এবং পরবর্তী ১৫ দিনের অনবাসর পর্বের সূচনা হয়েছে। রথযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পূজা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা উপলক্ষে জামশেদপুরসহ বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে দেব স্নান মহোৎসব শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার ১০৮টি কলসের পবিত্র জলে মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়। মহাস্নানের পর ভগবানকে ৫৬ প্রকার ভোগ নিবেদন করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী এখন মহাপ্রভু আগামী ১৫ দিন অনবাসর পর্বে অবস্থান করবেন।

আষাঢ় মাসের বিশ্বখ্যাত রথযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত এই দেব স্নান মহোৎসব সোমবার জামশেদপুরের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দির ও ইস্কন কেন্দ্রগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর ভ্রাতা বলভদ্র এবং ভগিনী সুভদ্রার ১০৮টি কলসের পবিত্র জলে রাজকীয় অভিষেক সম্পন্ন হয়। পুরো আচার-অনুষ্ঠান জুড়ে বৈদিক মন্ত্রপাঠ, শঙ্খনাদ এবং ভজন-কীর্তনের পরিবেশ বিরাজ করে। বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে উপস্থিত হয়ে পূজা-অর্চনায় অংশ নেন।

দেব স্নান মহোৎসবে শুধুমাত্র জল নয়, ধর্মীয় ও আয়ুর্বেদিক গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন উপাদান দিয়েও অভিষেক করা হয়। অভিষেকে গঙ্গাজল, পঞ্চামৃত, চন্দন, অশ্বগন্ধা, নারকেলের জল এবং বিভিন্ন ফলের রস ব্যবহার করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র ও শীতল উপাদান দিয়ে অভিষেক প্রকৃতি, স্বাস্থ্য ও আধ্যাত্মিক শক্তির সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

মহাস্নানের পর ভগবান জগন্নাথকে প্রথা অনুযায়ী ৫৬ প্রকারের বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্ত উপস্থিত থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় জামশেদপুরের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে দেব স্নান মহোৎসব পালিত, ১৫ দিনের অনবাসর পর্ব শুরু

দেব স্নান মহোৎসবের পর ভগবান জগন্নাথকে ঘিরে অনবাসর নামে একটি বিশেষ ধর্মীয় পর্ব শুরু হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় ধারাবাহিক মহাস্নানের পর ভগবান অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁর বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। সেই কারণে মহাপ্রভু, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে মন্দিরের বিশেষ কক্ষে ১৫ দিনের জন্য একান্তে রাখা হয়।

এই সময় ভক্তরা সরাসরি দর্শনের সুযোগ পান না। মন্দিরের প্রথা অনুযায়ী ভগবানকে ভেষজ ক্বাথ এবং বিশেষ চিকিৎসা নিবেদন করা হয়। অনবাসর পর্ব শেষ হলে মহাপ্রভু নবযৌবন রূপে ভক্তদের দর্শন দেন, যা নবযৌবন দর্শন নামে পরিচিত।

দেব স্নান মহোৎসবের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বখ্যাত ভগবান জগন্নাথের রথযাত্রার প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছে। অনবাসর পর্ব শেষ হওয়ার পর আষাঢ় শুক্ল দ্বিতীয়ার দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সুসজ্জিত রথে আরোহণ করে নগর পরিক্রমায় বের হবেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই যাত্রায় মহাপ্রভু তাঁর মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরে গমন করেন।

জামশেদপুরের ইস্কন মন্দির, খাসমহল জগন্নাথ মন্দির, গান্ধী আশ্রম, বেলডিহ কালীবাড়ি এবং অন্যান্য প্রধান মন্দিরে দিনভর বিশেষ পূজা, কলশযাত্রা, কীর্তন ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা মহাপ্রভুর দর্শন করে সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের প্রার্থনা করেন।

 

Leave a comment