দরভঙ্গা জেলার কমলা নদীর ওপর নির্মিত বহু বছরের পুরোনো সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। সেতুর নিরাপত্তা প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে হাজারো মানুষ, স্কুলপড়ুয়া, কৃষক, কর্মচারী এবং ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। তবে সেতুর সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি মেরামতের প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে কেবল আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেতুর রেলিং ও নিরাপত্তা প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। একাধিক স্থানে কংক্রিট খসে পড়া এবং ফাটল বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গ্রামবাসীদের মতে, বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। টানা আর্দ্রতা এবং কমলা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব সেতুর কাঠামোতেও দেখা যায়। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো প্রয়োজনীয় মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেতুটি আশপাশের একাধিক গ্রামের সঙ্গে জেলা সদর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারের সংযোগ রক্ষা করে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি দপ্তর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রে যাতায়াত করেন। কৃষকদের জন্যও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পথ দিয়েই কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানো হয়। ফলে সেতুর বর্তমান অবস্থার সরাসরি প্রভাব স্থানীয় জনজীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর পড়ছে।
গ্রামবাসীরা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অস্থায়ী মেরামত সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। ক্রমবর্ধমান যানবাহন চলাচল এবং পুরোনো কাঠামোর কথা বিবেচনা করে আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন ও মজবুত সেতু নির্মাণ করা উচিত, যাতে আগামী বছরগুলোতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সামনেও বিষয়টি তোলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলনে নামার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
সড়ক ও সেতু বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো সেতুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রযুক্তিগত পরিদর্শন এবং স্ট্রাকচারাল অডিট করা প্রয়োজন। কোথাও ফাটল বা কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা গেলে দ্রুত মেরামত অথবা প্রয়োজন হলে নতুন সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়ানো যায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুর বর্তমান অবস্থার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত দল পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদনে সেতুটিকে অনিরাপদ বলে চিহ্নিত করা হলে মেরামত অথবা নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হবে।
বর্তমানে গ্রামবাসীদের প্রধান দাবি, সেতুর অবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা হোক। তাঁদের মতে, এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিকাজ এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।












