বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে ত্বকের নানা সমস্যার বাড়বাড়ন্ত। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ঘামের কারণে শরীরের ভাঁজে এবং অন্যান্য উষ্ণ-স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ছত্রাকের সংক্রমণ সহজে ছড়াতে পারে। প্রথমে সামান্য চুলকানি বা লালচে দাগ দিয়ে শুরু হলেও পরে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই বর্ষাকালে ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা দরকার।
বর্ষায় কেন বাড়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি?
বর্ষার সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। তার সঙ্গে ঘাম শরীরে দীর্ঘক্ষণ লেগে থাকলে ত্বকের কিছু অংশ ছত্রাকের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁক, বগল, কুঁচকি, ঘাড়, উরু এবং শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত জায়গায় চুলকানি, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া, ফুসকুড়ি বা চামড়া ওঠার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেকেই সাধারণ চুলকানি ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু সমস্যা বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
স্নানের জলে নিমপাতা ব্যবহার করা যায়?
বর্ষাকালে ত্বকের যত্নে নিমপাতা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। নিমপাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করার পরামর্শ অনেকেই দিয়ে থাকেন। নিমের কিছু উপাদানের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকলেও, এটি কোনও নিশ্চিত চিকিৎসা বা প্রতিষ্ঠিত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিকল্প নয়।তাই ত্বকে দাদ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দিলে শুধুমাত্র নিমপাতার জলের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টি ট্রি অয়েল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
ত্বকের যত্নে টি ট্রি অয়েল ব্যবহারের কথাও প্রচলিত। তবে এটি সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করলে জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা হতে পারে।ব্যবহারের আগে অবশ্যই উপযুক্ত ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হয় এবং প্রথমবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করা ভালো। ত্বকে সমস্যা বাড়লে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীর শুকনো রাখাই সবচেয়ে জরুরি
বর্ষায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন এড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা। প্রতিদিন স্নানের পর তোয়ালে দিয়ে শরীর ভালোভাবে মুছে নিন। বিশেষ করে কুঁচকি, বগল, পায়ের আঙুলের ফাঁক ও অন্যান্য ত্বকের ভাঁজে যেন জল বা ঘাম জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিন।ঘামে জামাকাপড় ভিজে গেলে দীর্ঘক্ষণ সেই পোশাক পরে থাকবেন না। দ্রুত শুকনো পোশাক পরে নেওয়া ভালো।
তোয়ালে বা মোজা কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না
ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত সামগ্রী পরিষ্কার রাখা জরুরি। তোয়ালে, মোজা, রুমাল বা অন্য ব্যক্তিগত জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার না করাই ভালো।মোজা ও জামাকাপড় নিয়মিত ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে ব্যবহার করুন। বর্ষাকালে কাপড় ভালোভাবে শুকনো হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
বর্ষায় কেমন পোশাক পরবেন?
বর্ষাকালে ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক সুতির পোশাক পরা যেতে পারে। খুব আঁটসাঁট পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে ঘাম ও আর্দ্রতা ত্বকের সঙ্গে আটকে থাকতে পারে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।যাঁরা নিয়মিত জিম করেন বা বেশি ঘামেন, তাঁদের ব্যায়ামের পর দ্রুত স্নান করে পরিষ্কার ও শুকনো পোশাক পরা উচিত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ত্বকে চুলকানি, গোলাকার দাগ, লালচে র্যাশ, চামড়া ওঠা বা জ্বালাপোড়া কয়েকদিন ধরে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। সমস্যা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে, বারবার ফিরে এলে বা ঘরোয়া যত্নে না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।নিজে থেকে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম বা মিশ্র ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ভুল চিকিৎসায় অনেক সময় ফাঙ্গাল ইনফেকশন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ত্বকে ঘাম ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দীর্ঘক্ষণ থেকে যায়। এর ফলে দাদ, হাজা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, চুলকানি বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের আর্দ্র অংশগুলি শুকনো রাখা, ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলা এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগ না করার মতো কয়েকটি অভ্যাস এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ঘরোয়া যত্নের ক্ষেত্রে নিমপাতা ব্যবহারের কথাও বলা হয়, তবে সংক্রমণ হলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।













