কানপুরে প্রকাশ্যে আসা কিডনি র্যাকেট মামলাটি জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। তদন্তে উঠে আসা ভিডিওগুলিতে অভিযুক্ত চিকিৎসককে নোটের গাঁটরির মধ্যে শুয়ে থাকতে এবং সেই অর্থ দিয়েই নিজেকে বাতাস করতে দেখা গেছে, যা পুরো র্যাকেটের কার্যপদ্ধতির একটি চিত্র তুলে ধরে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ভিডিওগুলি এক দালালের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে এই র্যাকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দালালের কাছ থেকে পাওয়া তিনটি পৃথক ভিডিওতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের জীবনের এমন দিক ফুটে উঠেছে, যেখানে তাকে অবৈধ উপার্জনের অর্থে ভোগবিলাস করতে দেখা যায়। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তিনি নোটের গাঁটরি বিছানায় ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপর শুয়ে আছেন এবং সেই অর্থকেই বাতাস করার জন্য ব্যবহার করছেন।
পুলিশের মতে, এই কিডনি র্যাকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল। দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কিডনি অপসারণ করা হত এবং পরে তা মোটা অঙ্কের অর্থে বিক্রি করা হত। এই পুরো প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকের ভূমিকা ছিল প্রধান, যিনি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা করতেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই র্যাকেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হয়েছে, যা অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যবহার করতেন। ভিডিওতে তার আচরণ থেকে বোঝা যায়, তিনি তার কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি এবং নির্ভয়ে এই অবৈধ উপার্জন ভোগ করছিলেন।
পুলিশ বর্তমানে মামলাটির গভীরে তদন্ত চালাচ্ছে এবং এই র্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি যাদের কিডনি অপসারণ করা হয়েছে, তাদের পরিচয় এবং বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং শীঘ্রই পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হবে। প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।











