কর্ণাটকের চিত্রদুর্গে NH-48 এ স্লিপার বাস ও লরির সংঘর্ষে বাসে আগুন, ১০ জনেরও বেশি যাত্রী জীবন্ত পুড়ে নিহত, ২২ জন গুরুতর আহত।
কর্ণাটক: কর্ণাটকের চিত্রদুর্গ জেলা থেকে একটি হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। NH-48 (National Highway-48)-এ ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একটি প্রাইভেট স্লিপার বাস আগুনের গোলা হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় ১০ জনেরও বেশি যাত্রী জীবন্ত পুড়ে মারা গেছেন, এবং ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাসটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়।
NH-48 এ কিভাবে ঘটলো এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন বেঙ্গালুরু থেকে শিবামোগ্গাগামী একটি প্রাইভেট স্লিপার বাস চিত্রদুর্গ জেলার হিরিয়ুরের কাছে NH-48-এ চলছিল। এসময় হিরিয়ুর থেকে বেঙ্গালুরুর দিকে আসা একটি লরি হঠাৎ করে ডিভাইডার অতিক্রম করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লরি চালক অসতর্কতা (negligence) অবলম্বন করেন এবং দ্রুত গতিতে বাসের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ ঘটান। সংঘর্ষের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাসে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পরে।
সংঘর্ষের পর আগুন ভয়ংকর রূপ নেয়
লরি ও বাসের সংঘর্ষের পর বাসের সামনের অংশে আগুন লেগে যায়। স্লিপার বাস হওয়ার কারণে অনেক যাত্রী তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পরে যে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগই ছিল না। কিছু যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন এবং জীবন্ত পুড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগুনের শিখা কয়েক মিটার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী পুরো হাইওয়েতে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বাসে ছিলেন ৩২ জন যাত্রী
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসে মোট ৩২ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি ‘সি বার্ড’ (Sea Bird) নামের একটি প্রাইভেট সার্ভিসের ছিল। আগুন লাগার পর বাসটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি যাত্রী ঘটনাস্থলেই জীবন্ত পুড়ে মারা গেছেন। তবে মৃতের সঠিক সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
২২ জন আহত, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর
![]()
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের গুরুতর পোড়া (burn injuries) আঘাত লেগেছে। আহতদের সবাইকে দ্রুত হিরিয়ুর ও চিত্রদুর্গের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকজন আহতর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের বিশেষ চিকিৎসা (critical care) কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর শুরু হয় হুলস্থুল
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে হুলস্থুল मच যায়। হাইওয়েতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো থেমে যায় এবং স্থানীয় लोग সাহায্য করার জন্য ছুটে আসেন। আগুন লাগার পর लोग বাসের কাছে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে করতে দেখা যায়। অনেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে কিছুই করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের (fire brigade) দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুর্ঘটনার ভিডিও ভাইরাল
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার একটি ভিডিও (video) ভাইরাল হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায় বাসটি সম্পূর্ণরূপে আগুনের শিখায় ঘেরা এবং আশেপাশে স্থানীয় लोग দাঁড়িয়ে আছেন। ভিডিওটি দেখলে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বোঝা যায়। আগুন নেভানোর পর বাসের শুধু কাঠামো অবশিষ্ট ছিল।
বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের অবস্থা
দুর্ঘটনায় বাসের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার চিকিৎসা হাসপাতালে চলছে। বাসটির কন্ডাক্টর মহম্মদ সেলিম সামান্য আহত হয়েছেন। কন্ডাক্টর দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করে জানান যে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয় এবং জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এরপর তিনি বাস থেকে ছিটকে পড়েন। এরপর তিনি কিছু লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তার হাত ও পায়ে আঘাত লেগেছে, তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
অসতর্কতাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে
প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে অসতর্কতার (rash driving) ফল বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, লরি চালক কোনো সতর্কতা অবলম্বন না করে ডিভাইডার অতিক্রম করেছিলেন, যার ফলে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












