কর্নাটকে সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য পদত্যাগের জল্পনার মধ্যে রাজ্যপাল বেঙ্গালুরুর বাইরে

কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারান্দ গেহলট বেঙ্গালুরুর বাইরে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পদক্ষেপ চলবে, পাশাপাশি ডি কে শিবকুমারকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে নিয়ে আলোচনা চলছে।

কর্নাটকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য পদত্যাগের জল্পনা ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। একই সময়ে জানা গেছে, কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ার চন্দ গেহলট বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে নেই এবং রাজভবন সূত্র অনুযায়ী তিনি একটি জরুরি কর্মসূচির কারণে মুম্বইয়ে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্তরে প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যপাল রাজ্যে উপস্থিত না থাকলে মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সমস্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া বৃহস্পতিবার সকালে পদত্যাগ করতে পারেন। এর আগে তিনি সরকারি বাসভবনে সব মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি প্রাতরাশ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, ওই বৈঠকের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে পারেন।

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, এই পদক্ষেপ কংগ্রেস নেতৃত্বের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার ভারসাম্য সংক্রান্ত সমঝোতার অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ৩০ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে পারেন।

কর্নাটকে সিদ্ধারামাইয়ার সম্ভাব্য পদত্যাগের জল্পনার মধ্যে রাজ্যপাল বেঙ্গালুরুর বাইরে

ভারতের সংবিধান ও প্রশাসনিক প্রথা অনুযায়ী, রাজ্যপাল কোনো কারণে রাজ্য বা রাজধানীতে উপস্থিত না থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে পদত্যাগপত্র রাজভবনের সচিব, বিশেষ আধিকারিক অথবা রাজ্যপালের অনুমোদিত আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়া হয়। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর লিখিত পদত্যাগপত্র রাজভবনে জমা দেওয়া যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়। রাজ্যপালের প্রত্যাবর্তন বা অনুমোদনের পর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। ফলে রাজ্যপালের অনুপস্থিতিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অন্তরায় হিসেবে ধরা হয় না।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, “রাজ্যপাল উপস্থিত থাকুন বা না থাকুন, আমাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী চলবে।”

কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বর্তমানে উপমুখ্যমন্ত্রী ও সংগঠনের মধ্যে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ডি কে শিবকুমারের নাম নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্নাটকের নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসে তিনজন উপমুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বিবেচনায় বিভিন্ন শ্রেণির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য নামের মধ্যে তফসিলি জাতিভুক্তদের মধ্যে জি পরমেশ্বর বা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া এবং লিঙ্গায়ত সম্প্রদায় থেকে এম বি পাটিল বা ঈশ্বর খাণ্ড্রের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে কেজে জর্জ, ইউটি খাদার বা জমির আহমদ খানের নামও সামনে এসেছে।

 

Leave a comment