বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তাঁর অবদান স্মরণ করেছেন।
নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। মোদী এক্স-এ (X) একটি পোস্টে লেখেন, তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাঁর সমবেদনা রয়েছে এবং ঈশ্বর তাঁদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবদান
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ২০১৫ সালে ঢাকার সাথে তাঁর সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর চিন্তা ও ঐতিহ্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ভবিষ্যতে পথ দেখাবে। মোদী বলেন, তাঁর আত্মা শান্তি পাক।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৫ সালে। তিনি তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যার পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। জিয়াউর রহমানকে ১৯৮১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের সময় হত্যা করার পর জিয়া সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জন আন্দোলন গড়ে তোলেন, যার ফলস্বরূপ ১৯৯০ সালে শাসনের পতন হয়। এরপর খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেন। তিনি ২০০১ সালে আবারও প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন।
বিএনপি ও শেখ হাসিনার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দল ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সাথে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। এই সময়ে জিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলাও নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছিলেন। জানুয়ারি ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে শেষ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়। এতে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।
![]()
খালেদা জিয়া বেশ কয়েক দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তাঁর চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ছিল। তাঁকে রাজধানীর একটি বিশেষ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মেডিকেল বোর্ডের সদস্য জিয়াউল হক বলেন, জিয়াকে জীবন রক্ষাকারী সিস্টেমে রাখা হয়েছিল এবং তাঁকে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করার প্রয়োজন ছিল। তাঁর বড় ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারিক রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর সাথে দেখা করতে যান।
খালেদার ব্যক্তিগত জীবন
খালেদা জিয়ার বিবাহ দেশটির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের ১৯৮১ সালে হত্যার পর খালেদা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে অনেক উত্থান-পতন এসেছে, কিন্তু তিনি ক্রমাগত জনগণের সেবা এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্মৃতি
প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৫ সালে ঢাকার সাথে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই সাক্ষাৎ তাঁর জন্য সবসময় স্মরণীয় থাকবে। মোদী আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার চিন্তা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পথ দেখাবে।
খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার
খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্মরণ করা হবে। তাঁর অবদান কেবল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সংগ্রামশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুন দিশা দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ঢেউ উঠেছে। তাঁর সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষই তাঁর অবদান স্মরণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর অবদান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন।











