কিচ্চা সুদীপের ৫৩তম জন্মদিন আজ, শিমোগা থেকে ‘মক্খি’ ও ‘দবং ৩’-এর যাত্রা

কন্নড় অভিনেতা কিচ্চা সুদীপ ২ সেপ্টেম্বর ৫৩তম জন্মদিন পালন করছেন। শিমোগায় জন্ম নেওয়া সুদীপ ‘হুচ্চা’, ‘মক্খি’, ‘ফুঁক’ ও ‘দবং ৩’-সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।

কন্নড় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা কিচ্চা সুদীপ ২ সেপ্টেম্বর তাঁর ৫৩তম জন্মদিন পালন করছেন। প্রায় তিন দশকের কেরিয়ারে তিনি কন্নড় সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি, তামিল ও তেলুগু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা, প্রযোজনা এবং টেলিভিশনেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন।

কিচ্চা সুদীপের জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে কর্ণাটকের শিমোগায়। তাঁর পুরো নাম সুদীপ সঞ্জীব। তাঁর পরিবার মূলত কর্ণাটকের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবার নাম এম. সঞ্জীব এবং মায়ের নাম সরোজা সঞ্জীব। সুদীপের মা সরোজা সঞ্জীব ২০২৪ সালে মারা যান। অভিনেতা বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবার এবং বাবা-মায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন।

সুদীপের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘কিচ্চা’ তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এটি জন্মের সময় রাখা নাম ছিল না। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া কন্নড় ছবি ‘হুচ্চা’-তে সুদীপ ‘কিচ্চা’ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি দর্শকদের ব্যাপক সমর্থন পায় এবং তাঁর চরিত্রটিও জনপ্রিয় হয়। এরপর ভক্তরা তাঁকে কিচ্চা নামে ডাকতে শুরু করেন।

সময়ের সঙ্গে এই নাম তাঁর জনপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে এবং তিনিও নিজের নামের সঙ্গে এটি যুক্ত করেন। এরপর সুদীপ সঞ্জীব ‘কিচ্চা সুদীপ’ নামে পরিচিত হন।

কিচ্চা সুদীপের ৫৩তম জন্মদিন আজ, শিমোগা থেকে ‘মক্খি’ ও ‘দবং ৩’-এর যাত্রা

অভিনেতা হওয়ার আগে সুদীপ জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজের পথ তৈরি করেন। রান্নার প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কেরিয়ারের শুরুর দিকে তিনি একটি রেস্তোরাঁয় দোসা বানানোর কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে বড় তারকা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর তাঁর এই পুরনো অভিজ্ঞতাও তাঁর সংগ্রামের কাহিনির একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কিচ্চা সুদীপের ৫৩তম জন্মদিন আজ, শিমোগা থেকে ‘মক্খি’ ও ‘দবং ৩’-এর যাত্রা

শৈশবে সুদীপ বেশ লাজুক স্বভাবের ছিলেন বলে জানা যায়। আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং জড়তা কাটানোর জন্য তাঁর বাবা তাঁকে মুম্বাইয়ের রোশন তানেজা স্কুল অব অ্যাক্টিংয়ে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান। শুরুতে সুদীপের অভিনেতা হওয়ার পরিবর্তে চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ এবং চলচ্চিত্র জগতের অভিজ্ঞতার পর তিনি অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশের আগে সুদীপ বিজ্ঞাপনের জন্য ডাবিংও করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমনই একটি প্রাথমিক ডাবিংয়ের কাজের জন্য তিনি ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। এই ছোট শুরু পরবর্তীতে তাঁর দীর্ঘ চলচ্চিত্র কেরিয়ারে পরিণত হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ক্রিকেটেও সুদীপের আগ্রহ রয়েছে। কলেজ জীবনে তিনি ক্রিকেট খেলেছেন এবং অনূর্ধ্ব-১৭ স্তরেও অংশ নিয়েছেন। পরে তিনি সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে কর্ণাটক বুলডোজার্স দলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং দলের অধিনায়কত্বও করেন।

সুদীপ ১৯৯৭ সালে ‘থায়াভ্বা’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি একাধিক কন্নড় ছবিতে অভিনয় করেন এবং ‘স্পর্শ’ ও ‘হুচ্চা’-র মতো ছবির মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। তবে হিন্দি-সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তাঁর বড় পরিচিতি আসে এসএস রাজামৌলির ২০১২ সালের ছবি ‘মক্খি’ (Eega) থেকে। ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পায়। এরপর তাঁর জনপ্রিয়তা কন্নড় সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

সুদীপ ২০০৮ সালের ‘ফুঁক’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। এরপর তিনি হিন্দি ছবিতেও বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন। সালমান খানের ‘দবং ৩’-এ তিনি প্রধান খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন, যা হিন্দিভাষী দর্শকদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ায়।

 

Leave a comment