শক্তিগড় মানেই ল্যাংচা। এই জনপ্রিয় মিষ্টির টানেই প্রতিদিন বহু মানুষ জাতীয় সড়ক ধরে যাতায়াতের সময় শক্তিগড়ে থামেন। তবে সেই ল্যাংচা ও অন্যান্য খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে এবার মাঠে নামল প্রশাসন। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের একাধিক ল্যাংচার দোকান, ধাবা ও রেস্তরাঁয় অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর, স্বাস্থ্য দফতর এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ দল।
ল্যাংচা তৈরির জায়গায় কী দেখলেন আধিকারিকরা?
অভিযানের সময় আধিকারিকদের নজরে ছিল মূলত খাবার তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। ল্যাংচা তৈরির ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, কোন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রান্নার জায়গার পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হয়।শুধু মিষ্টির দোকান নয়, জাতীয় সড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন ধাবা ও রেস্তরাঁর রান্নাঘর এবং খাবার রাখার জায়গাতেও পরিদর্শন চালানো হয়। খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের সময় নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, সেদিকেও বিশেষ নজর ছিল।
ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংসও নজরে
অভিযানে শুধুমাত্র ল্যাংচার মান পরীক্ষা করা হয়নি। ধাবা ও রেস্তরাঁগুলিতে মজুত থাকা অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীও পরিদর্শন করা হয়।ফ্রিজে মাছ, মাংস ও সবজি কীভাবে রাখা হয়েছে, খাবার সংরক্ষণের পরিবেশ ঠিক রয়েছে কি না—তা পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি মশলা ও পনিরের মতো খাদ্যসামগ্রীর নমুনাও পরীক্ষার আওতায় আসে।অর্থাৎ খাবারের স্বাদ বা গুণমানের পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও ছিল প্রশাসনের কড়া নজর।
নষ্ট করা হল ১০০-১৫০ প্যাকেট শরবত
অভিযানের সময় বড় ধরনের কোনও অনিয়মের অভিযোগ সামনে না এলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।ব্যবসায়ী শুভ্রম সেনগুপ্ত জানান, আধিকারিকরা তাঁদের রান্নাঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তবে শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থীদের জন্য রাখা কিছুশরবতজাতীয় পানীয়ের প্যাকেটে প্রয়োজনীয় উৎপাদনের তারিখের তথ্য না থাকায় সেগুলি নিয়ে আপত্তি ওঠে।এরপর দফতরের নির্দেশে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি শরবতের প্যাকেট নষ্ট করা হয় বলে ব্যবসায়ীর দাবি।
বড় কোনও অনিয়ম মেলেনি, দেওয়া হল নির্দেশিকা
অভিযানের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিদর্শনের লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট দোকান বা ব্যবসায়ীকে নিশানা করা নয়। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ এবং মানসম্মত খাবার পান, সেটিই মূল উদ্দেশ্য।শক্তিগড়ের ল্যাংচার দীর্ঘদিনের সুনাম এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী দিনেও বিভিন্ন দোকান, ধাবা ও রেস্তরাঁয় এমন নজরদারি চলবে বলে জানা গিয়েছে।
ক্রেতাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান?
শক্তিগড়ে প্রতিদিন বহু পর্যটক, যাত্রী এবং স্থানীয় মানুষ ল্যাংচা ও বিভিন্ন খাবার কেনেন। ফলে খাবার তৈরির জায়গার পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে কাঁচামাল সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ।প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে আরও সতর্ক করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছবে নিরাপদ খাবার।
শক্তিগড়ের জনপ্রিয় ল্যাংচার দোকান, ধাবা ও রেস্তরাঁয় মঙ্গলবার যৌথ অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর, স্বাস্থ্য দফতর ও জেলা প্রশাসন। খাবার তৈরির পদ্ধতি, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য সংরক্ষণের নিয়ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু শরবতের প্যাকেট নষ্ট করা হয়েছে।











