বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও বাড়ছে Kidney Stones-এর প্রকোপ। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিড জমে পাথর তৈরি হয়, আর এর পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা খাদ্যাভ্যাসের। তাই প্রতিদিনের প্লেটে কী থাকছে, সেটাই নির্ধারণ করছে আপনার কিডনির ভবিষ্যৎ।
অক্সালেটেই বিপদ! কোন খাবার কমাবেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালসিয়াম-অক্সালেট পাথরই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তাই পালং শাক, বিট, মিষ্টি আলু, বাদাম, চকোলেট ও সয়া জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি বেশি পরিমাণে কালো চা পান করলেও ঝুঁকি বাড়ে। তবে এই খাবারগুলি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
লবণ-প্রোটিনে বাড়ছে ঝুঁকি, সতর্ক থাকুন
অতিরিক্ত লবণ শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পাথর তৈরির অন্যতম কারণ। পাশাপাশি লাল মাংস, মুরগি, ডিম ও মাছের মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারে থাকা পিউরিন ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়। ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসবের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
কী খেলে মিলবে স্বস্তি? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত জল পানই কিডনির পাথর প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিন অন্তত ২.৫–৩ লিটার জল খাওয়া উচিত। এছাড়া লেবুর জল সাইট্রেটের জোগান দিয়ে পাথর তৈরি কমায়। ডাবের জল শরীর হাইড্রেট রাখে। কম চর্বিযুক্ত দুধ, দই ও পনির পরিমিত পরিমাণে খেলে উপকার মেলে, কারণ খাবার থেকে পাওয়া ক্যালসিয়াম অক্সালেট শোষণ কমাতে সাহায্য করে।
সুষম খাদ্য ও ফাইবারেই সমাধান
শস্যদানা, ফল ও সবজিতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট এড়ানো উচিত, কারণ এটি অক্সালেটের মাত্রা বাড়াতে পারে। প্রাকৃতিক উৎস থেকেই ভিটামিন গ্রহণ করা বেশি নিরাপদ।
জীবনযাত্রা বদলালেই কমবে ঝুঁকি
স্থূলতা ও অনিয়মিত জীবনযাপনও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত জল পান—এই তিনটি অভ্যাস মেনে চললে অনেকটাই রোধ করা সম্ভব এই সমস্যা।
ভুল খাদ্যাভ্যাস ও কম জল খাওয়ার কারণে দ্রুত বাড়ছে কিডনিতে পাথরের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার ঝুঁকি বাড়ায়, আবার কিছু খাবার নিয়মিত খেলে পাথর গলতে বা বের হতে সাহায্য করে। সঠিক ডায়েটই হতে পারে এই সমস্যার বড় সমাধান।













