কিডনিতে পাথরের সমস্যা এখন আর শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তবে কিডনিতে পাথর হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে এবং সব ধরনের পাথরের কারণও এক নয়। তবুও প্রতিদিনের খাবারে কিছু পরিবর্তন এনে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত নুন ও প্রসেসড খাবারের অভ্যাস এড়ানো এবং পর্যাপ্ত জল পান করা কিডনি সুস্থ রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
কফি খেলেই কি কিডনিতে পাথর হয়?
কিডনিতে পাথর নিয়ে কফিকে ঘিরে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। ফরিদাবাদের সর্বোদয় হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টি পরামর্শক ডঃ রীতিকা শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিমিত কফি পান করলেই কিডনিতে পাথর হবে—এমনটা নয়।তবে অতিরিক্ত কফি পান না করাই ভালো। প্রতিদিন প্রায় দুই কাপের মতো কফি সাধারণত পরিমিত গ্রহণের মধ্যে পড়ে। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, কিডনির কার্যক্ষমতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার উপর খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব আলাদা হতে পারে।
অতিরিক্ত নুনযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার
চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ কিডনির উপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।তাই খাবারে অতিরিক্ত নুন দেওয়া এবং নিয়মিত বেশি নুনযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক মোট লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের মধ্যে রাখা ভালো।
নুডলস ও অন্যান্য রেডিমেড খাবার
ইনস্ট্যান্ট নুডলস, রেডিমেড খাবার কিংবা দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য বিভিন্ন প্রসেসড ফুডে অতিরিক্ত নুন ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প হতে পারে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে তৈরি তাজা খাবার, শাকসবজি ও সুষম খাদ্যকে দৈনন্দিন মেনুতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের খাবারের ব্যাপারে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উপকারী।
ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত তেল-নুনযুক্ত বাইরের খাবার
বার্গার, ফ্রাইড ফুড, পিৎজা কিংবা অন্যান্য ফাস্ট ফুডে অনেক সময় নুন, চর্বি ও ক্যালোরির পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল না পান করলে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।শুধু ফাস্ট ফুড নয়, বাইরে থেকে অর্ডার করা খাবারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার বদলে বাড়িতে তৈরি তাজা ও সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিডনিতে পাথর ঠেকাতে কী খাবেন?
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঠিক কতটা জল প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর নির্ভর করে।দৈনন্দিন খাবারে তাজা শাকসবজি ও ফল, সুষম পুষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।
শুধু খাবার নয়, জীবনযাত্রার দিকেও নজর দিন
কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার বাদ দিলেই হবে না। পর্যাপ্ত জল পান না করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত প্রসেসড খাবারের উপর নির্ভরশীলতাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, কিডনিতে পাথরের ধরন ও কারণ ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে। তাই কারও বারবার পাথর হলে বা কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে নিজে থেকে খাবার সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে শুধু পর্যাপ্ত জল পান করলেই হবে না, খাবারের দিকেও নজর রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত নুনযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার, চিপস-নুডলসের মতো প্রসেসড ফুড এবং নিয়মিত ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস কিডনির স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ।













