ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার জন্য অনেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু যেসব খাবারকে আমরা পুষ্টিকর বলে মনে করি, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে কিডনির জন্য বিপদ। চিকিৎসকদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমকালে শরীরে জলের ঘাটতি থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

পালং শাক: উপকারী হলেও বাড়াতে পারে পাথরের ঝুঁকি
পালং শাক ভিটামিন, আয়রন ও ফাইবারে সমৃদ্ধ। তবে এতে অক্সালেটের মাত্রা বেশি থাকে। শরীরে এই অক্সালেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন তৈরি করতে পারে। যাঁদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে, তাঁদের পালং শাক খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত নুন: কিডনির নীরব শত্রু
খাবারে অতিরিক্ত নুন শুধু রক্তচাপ বাড়ায় না, কিডনির উপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা কিডনিতে পাথর তৈরির অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

প্যাকেটজাত স্যুপে লুকিয়ে থাকতে পারে বিপদ
ইনস্ট্যান্ট বা প্যাকেটজাত স্যুপ অনেকের কাছেই দ্রুত খাবারের সহজ সমাধান। কিন্তু এই ধরনের খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিটরুট: সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো
বিটরুটে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও পুষ্টিগুণ থাকলেও এতে অক্সালেটের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। তাই যাঁদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের বিটরুট পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সফট ড্রিঙ্কস ও কোল্ড ড্রিঙ্কস বাড়াতে পারে সমস্যা
গরমে অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে কোমল পানীয়ের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু এসব পানীয়তে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড প্রস্রাবকে বেশি অম্লীয় করে তুলতে পারে। পাশাপাশি এগুলো শরীরে পর্যাপ্ত জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে না। ফলে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
শুকনো ফলেও দরকার সংযম
কাজু ও কিছু বাদামে অক্সালেটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। যদিও এগুলো অত্যন্ত পুষ্টিকর, তবে অতিরিক্ত খাওয়া কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে শুকনো ফল ভিজিয়ে খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

কিডনিতে পাথর এখন একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার অতিরিক্ত খেলে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। পালং শাক, বিটরুট, অতিরিক্ত নুন, প্যাকেটজাত স্যুপ, সফট ড্রিঙ্কস এবং কিছু শুকনো ফল—এই ছয় ধরনের খাবার নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।








