Kishore Kumar Ban from TV-Radio: জরুরি অবস্থায় কেন রেডিও-টিভিতে বন্ধ হয়েছিল কিশোর কুমারের গান? নেপথ্যের ঘটনা জানলে অবাক হবেন

জরুরি অবস্থার সময় কেন অল ইন্ডিয়া রেডিও ও দূরদর্শনে কিশোর কুমারের গান সম্প্রচার বন্ধ হয়েছিল? জানুন অমিত কুমারের বর্ণনায় সেই ঘটনার নেপথ্যের কাহিনি।

কিশোর কুমার মানেই একের পর এক কালজয়ী গান। বাংলা ও হিন্দি—দুই ভাষাতেই তাঁর গানের জনপ্রিয়তা আজও অমলিন। অথচ একটা সময় দেশের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম অল ইন্ডিয়া রেডিও (AIR) এবং দূরদর্শনে তাঁর গান বাজানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাটি এমন এক সময়ে, যখন প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে কিশোর কুমারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। জরুরি অবস্থার সময় ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার নেপথ্যে ছিল একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন।

১৯৭৫-৭৭: জরুরি অবস্থার সময় ঘটেছিল ঘটনা

১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। সেই সময়ই কিশোর কুমারের গান সরকারি রেডিও ও দূরদর্শনে সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে।তাঁর ছেলে অমিত কুমার পরবর্তীকালে কপিল শর্মার শো-তে এই ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তখন কিশোর কুমার পেশাগত জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ছিলেন এবং তাঁর কণ্ঠে একের পর এক জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলছিল।

দিল্লি থেকে এল ফোন

অমিত কুমারের বর্ণনা অনুযায়ী, জরুরি অবস্থার সময় দিল্লি থেকে কিশোর কুমারের কাছে ফোন আসে। মন্ত্রকের এক আধিকারিক তাঁকে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।তাঁকে জানানো হয়, তাঁর যাতায়াতের টিকিট পাঠানো হবে এবং পরদিন দিল্লিতে যেতে হবে। কারণ তার পরের দিনই নির্ধারিত ছিল অনুষ্ঠান।কিন্তু কিশোর কুমার সরাসরি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।

কিশোরের কী শর্ত ছিল?

অমিত কুমারের কথায়, কিশোর কুমার জানিয়েছিলেন যে দিল্লি থেকে কোনও প্রতিনিধি এসে তাঁর সঙ্গে কথা বললে তবেই তিনি অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।অর্থাৎ শুধু ফোন করে নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে তিনি সরাসরি আলোচনার পক্ষে ছিলেন। তাঁর এই অবস্থান সংশ্লিষ্ট কর্তাদের পছন্দ হয়নি বলে অমিত কুমারের বর্ণনায় উঠে আসে।এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্প্রচার বন্ধ!অমিত কুমারের দাবি অনুযায়ী, ওই কথোপকথনের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই কিশোর কুমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এরপর অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং দূরদর্শনে তাঁর গান সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।ফলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়কের গান সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম থেকে কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়।তবে রেডিও ও টেলিভিশনে গান না বাজলেও কিশোর কুমারের জনপ্রিয়তায় তার কোনও বড় প্রভাব পড়েনি। তাঁর গান শ্রোতাদের মধ্যে আগের মতোই জনপ্রিয় ছিল।

জরুরি অবস্থা শেষ হতেই ফের বাজল গান

১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার অবসানের পর পরিস্থিতিও বদলায়। কিশোর কুমারের গান আবার সরকারি রেডিও ও দূরদর্শনে শোনা যেতে শুরু করে।এই ঘটনা তাঁর জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যে সময়ে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন, সেই সময়েই সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে তাঁর গান বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের আগ্রহের কারণ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল কিশোর কুমারের সঙ্গীতযাত্রা?

কিশোর কুমারের গানের কেরিয়ারের শুরুটাও ছিল বেশ আকর্ষণীয়। সঙ্গীত পরিচালক খেমচাঁদ প্রকাশ তাঁকে ‘জিদ্দি’ ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন প্লেব্যাক গায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।পরবর্তীকালে তাঁর কণ্ঠে একের পর এক জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়। ‘এক লড়কি ভিগি ভাগি সি’, ‘মেরে স্বপ্নো কি রানি’, ‘ইয়ে শাম মস্তানি’, ‘ও মেরে দিল কে চেইন’, ‘হামে তুমসে পেয়ার কিতনা’, ‘পল পল দিল কে পাস’, ‘জিন্দেগি এক সফর হ্যায় সুহানা’—সহ অসংখ্য গান তাঁর কেরিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করে।

কিশোর কুমারের কণ্ঠ আজও ভারতীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের একেবারে শীর্ষ সময়ে রেডিও ও দূরদর্শনে তাঁর গান সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়ে। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে পরে তাঁর ছেলে অমিত কুমার একটি অনুষ্ঠানে বিস্তারিত কথা বলেছিলেন।

Leave a comment