আর্দ্রতা বাড়লেই হেঁশেলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় খাদ্যদ্রব্যে পোকা ধরা। বিশেষ করে চাল, ডাল, আটা কিংবা সুজি দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা আর কয়েকটি ঘরোয়া কৌশল জানলে সহজেই এই সমস্যা থেকে রেহাই মিলতে পারে।
মরসুম বদল মানেই খাদ্যদ্রব্যে পোকার ভয়
শীত থেকে গরম বা বর্ষায় ঢুকলেই বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে হেঁশেলের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর উপর। ঠিকমতো সংরক্ষণ না হলে অল্প সময়েই চাল-ডাল বা সুজিতে পোকা ধরতে শুরু করে।
নিমপাতা: প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ
চাল বা ডাল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শুকনো নিমপাতা অত্যন্ত কার্যকর। কৌটোর উপরে কয়েকটি নিমপাতা রেখে ঢাকনা বন্ধ করলে পোকামাকড় সহজেই দূরে থাকে। নিমের প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ খাবার নষ্ট হওয়া আটকায়।
শুকনো লাল লঙ্কা রাখুন কৌটোর ভিতর
লঙ্কার ঝাঁজ পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। চাল, ডাল বা আটা রাখার পাত্রে দু’-একটি শুকনো লাল লঙ্কা দিলেই পোকার উৎপাত অনেকটাই কমে। তবে লঙ্কা ভাঙা যাবে না, তা হলে স্বাদ নষ্ট হতে পারে।
লবঙ্গের গন্ধেই পালায় পোকা
বিশেষ করে সুজি বা ময়দা সংরক্ষণের জন্য লবঙ্গ বেশ উপকারী। কৌটোর মধ্যে কয়েকটি লবঙ্গ রাখলে তার তীব্র গন্ধ পোকামাকড় দূরে রাখতে সাহায্য করে এবং আর্দ্রতাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
দেশলাই কাঠি ও সর্ষের তেল—দু’টি পুরনো কিন্তু কার্যকর টোটকা
ডাল সংরক্ষণে এক-দুটি দেশলাই কাঠি রাখলে সালফারের গন্ধে পোকা কমে। পাশাপাশি কয়েক ফোঁটা সর্ষের তেল দিলে তার ঝাঁজ ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ ডালকে দীর্ঘদিন ভালো রাখে।
মরসুম বদলালেই হেঁশেলে চাল, ডাল, আটা বা সুজিতে পোকার উৎপাত বেড়ে যায়। তবে রাসায়নিক নয়, ঘরের সাধারণ পাঁচটি উপাদান ব্যবহার করেই খাবার দীর্ঘদিন সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। জানুন সহজ ও কার্যকর উপায়।













