ভারতের প্রথম ‘3D’ ছবি কোনটি? এই সিনেমাই বদলে দিয়েছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস!

ভারতের প্রথম ‘3D’ ছবি কোনটি? এই সিনেমাই বদলে দিয়েছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস!

আজকের দিনে থ্রিডি বা ভিএফএক্স সিনেমা দর্শকের কাছে স্বাভাবিক হলেও, আশির দশকে বিষয়টি ছিল একেবারেই কল্পনাতীত। আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই, বাস্তব সেট ও অভিনব ক্যামেরা কৌশল ব্যবহার করে যে ছবিটি ভারতীয় সিনেমায় থ্রিডি যুগের সূচনা করেছিল, তার নাম আজও অনেকের অজানা।

পরীক্ষানিরীক্ষার পথেই ভারতীয় সিনেমার অগ্রযাত্রা

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস মানেই ধারাবাহিক উদ্ভাবন। নির্বাক যুগ পেরিয়ে সবাক, তারপর রঙিন পর্দা—প্রতিটি ধাপেই নতুনত্বের ছাপ রেখেছে এই শিল্পমাধ্যম। সেই ধারাবাহিকতায় আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে আসে সবচেয়ে সাহসী এক পরীক্ষা—থ্রিডি সিনেমা।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মাঝেই বড় চ্যালেঞ্জ

সেই সময় ভারতে না ছিল উন্নত ভিএফএক্স, না ছিল ডিজিটাল গ্রাফিক্স। থ্রিডি চশমা, স্টিরিওস্কোপিক প্রজেকশন এবং আলাদা ক্যামেরা সেটআপ—সব মিলিয়ে থ্রিডি ছবি বানানো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও কিছু নির্মাতা বিশ্বাস করেছিলেন, ভারতীয় দর্শক এই নতুন অভিজ্ঞতাকে আপন করে নেবেন।

১৯৮৪: জন্ম নেয় ভারতের প্রথম থ্রিডি ছবি

এই সাহসী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয় ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘My Dear Kuttichathan’ ছবির মাধ্যমে। পরিচালক ছিলেন জিজো পুন্নুস। এটিই ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ থ্রিডি সিনেমা। ছবির গল্পে ছিল এক বন্ধুত্বপূর্ণ ছোট ভূত আর কয়েকটি শিশুর কল্পনাপ্রবণ অভিযানের কাহিনি।

CGI নয়, বাস্তব সেটেই তৈরি হয়েছিল ভিজ্যুয়াল ম্যাজিক

ছবিটির সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দেওয়াল বেয়ে হাঁটার সিকোয়েন্স। অভিনেতারা অভিনয় করেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনশীল স্টিল রিগে। কোনও কম্পিউটার গ্রাফিক্স নয়—শুধু বাস্তব সেট, ক্যামেরার মুভমেন্ট আর আলোর নিখুঁত ব্যবহারে তৈরি হয়েছিল সেই দৃশ্য, যা আজও সিনেমাপ্রেমীদের বিস্মিত করে।

ভয়ের বদলে কল্পনার জগৎ উপহার

হলিউডে যেখানে থ্রিডি মানেই ভৌতিক বা দানবকেন্দ্রিক ছবি, সেখানে ‘My Dear Kuttichathan’ বেছে নেয় শিশু ও পরিবারের জন্য উপযোগী গল্প। ফলে থ্রিডি প্রযুক্তি আতঙ্ক নয়, আনন্দ ও বিস্ময়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে ভারতীয় দর্শকের কাছে।

দর্শক উন্মাদনা ও পরবর্তী প্রভাব

ছবি মুক্তির পর থ্রিডি চশমা পরে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে এক সামাজিক ঘটনা। সিনেমা হলের বাইরে দীর্ঘ লাইন, নতুন অভিজ্ঞতার উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে ছবিটি এক সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে পরিণত হয়। ১৯৯৮ সালে হিন্দিতে ‘ছোটো চেতন’ নামে মুক্তি পেয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয়তা পায় এই ছবি।

নির্বাক থেকে সবাক, সাদা-কালো থেকে রঙিন—এর পর ভারতীয় সিনেমায় সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত লাফ ছিল থ্রিডি। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ছবিই প্রথমবার ভারতীয় দর্শককে থ্রিডি অভিজ্ঞতার স্বাদ দেয়। জানুন সেই যুগান্তকারী সিনেমার অজানা গল্প।

Leave a comment