নতুন বছরের উৎসবের আগে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া কলকাতা। ঠিক সেই সময়েই দিল্লি বিস্ফোরণের পর বাড়তি সতর্কতায় তৎপর হয়ে খাস কলকাতা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। স্ট্র্যান্ড রোড ও আলিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে।
স্ট্র্যান্ড রোডে এসটিএফের হানা
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে স্ট্র্যান্ড রোড এলাকায় অভিযান চালায় স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে থাকা বড় ব্যাগ তল্লাশি করতেই সামনে আসে ভয়ঙ্কর ছবি—ব্যাগ ভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ।
ব্যাগ খুলতেই চমক, উদ্ধার অত্যাধুনিক অস্ত্র
তল্লাশিতে ওয়ান শটার, ৭ এমএম পিস্তল-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ থেকে ২২ রাউন্ড কার্তুজও বাজেয়াপ্ত করা হয়। উৎসবের মরশুমে এই বিপুল অস্ত্র শহরে কেন আনা হচ্ছিল, তা ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
আলিপুর চিড়িয়াখানার সামনে আরেক গ্রেপ্তার
স্ট্র্যান্ড রোডের পাশাপাশি আলিপুর চিড়িয়াখানার সামনেও পুলিশের অভিযান চলে। সেখানে রাজেশ কুমার সাউ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র। পুলিশ সূত্রে দাবি, ধৃত ব্যক্তি বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের পরিচিত।
বছর শেষের উৎসব, বাড়তি সতর্কতায় লালবাজার
২৫ ডিসেম্বর থেকেই কলকাতায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা, পর্যটন কেন্দ্র ও উৎসবস্থলে কড়া নজরদারি চলছে। দিল্লি বিস্ফোরণের পর সম্ভাব্য নাশকতা রুখতেই এই আগাম সতর্কতা বলে জানিয়েছে লালবাজার।
তদন্তে একাধিক দিক
পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, কোথায় পাচার করা হচ্ছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্যান্য রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত তদন্তকারীদের।
দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর দেশজুড়ে সতর্কতা। তার মধ্যেই বছর শেষে কলকাতায় বড়সড় সাফল্য পেল লালবাজার ও এসটিএফ। শহরের দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে উদ্ধার হল আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, গ্রেপ্তার একাধিক।












