একজন গুরুতর জখম রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আশ্বাস দিয়েও তা কার্যকর না করায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া ভাষায় তিরস্কার করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কী ভাবে রাজ্য চালাচ্ছেন? সব কিছু ভেঙে পড়ছে।

আশ্বাসের পরেও বাস্তবায়ন নয়
দুই বছর আগে একটি বেসরকারি হাসপাতাল আদালতের দ্বারস্থ হয়, কারণ পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম এক মহিলার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছিল না। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজ্য সরকার আদালতে আশ্বাস দেয় যে রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।কিন্তু সেই আশ্বাসের বাস্তব রূপ এখনও দেখা যায়নি। বুধবার ফের মামলাটি শুনানিতে উঠলে আদালত রাজ্যের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।
‘একজন রোগীকেও ভর্তি করতে পারছেন না!’
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন,এটা এমন নয় যে কোনও বড় নীতি নির্ধারণের বিষয়। একজন রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যাপার। রাজ্যের সৌজন্য পর্যন্ত নেই। স্বাস্থ্যসচিবকে ডাকতে গেলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। একজন রোগীকেও ভর্তির ব্যবস্থা করতে পারছেন না! গোটা সিস্টেম কোলাপসড।আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, দীর্ঘদিন ধরে সময় চাওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আদালত বিরক্ত।

১০ মার্চ ‘শেষ সুযোগ’
আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ পরবর্তী শুনানি। সেদিন রাজ্যের তরফে ইতিবাচক সাড়া না মিললে আদালত ‘যথাযথ অর্ডার’ দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি কর্পোরেট হাসপাতালে ওই মহিলাকে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। আর্থিক চাপে পড়ে ২০২৪ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করে রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে।

স্বাস্থ্যসচিবকে তলব নিয়ে টানাপোড়েন
শুনানির সময় আদালত রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে এজলাসে তলব করার ইঙ্গিত দিলে সরকারি কৌঁসুলি আপত্তি জানান। এরপরই আদালত কড়া অবস্থান নিয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত ‘শেষ সুযোগ’ দেয়।

দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম এক মহিলাকে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতায় রাজ্যের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেন, “গোটা সিস্টেম কোলাপসড।” আগামী ১০ মার্চকে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আদালত।










