কেইআইআইপি প্রকল্পের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ মেয়র, ভাঙাগড়ায় বাড়ছে অসন্তোষ

কলকাতায় কেইআইআইপি প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ, ভাঙা-গড়ার পুনরাবৃত্তি ও অপচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অভিযোগ আসায় প্রকল্পের গতি ও তদারকি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

কেইআইআইপি প্রকল্প:কোলকাতায় দীর্ঘদিন ধরে চলা কেইআইআইপি প্রকল্পের অসম্পূর্ণ ও বিশৃঙ্খল কাজ নিয়ে শুক্রবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ‘টক-টু-মেয়র’ অনুষ্ঠানে বহু ওয়ার্ড থেকে মাটি খোঁড়ার পর কাজ ফেলে রাখা, বারবার ভাঙাগড়া এবং নিকাশি-জলসরবরাহ প্রকল্পের ধীরগতির অভিযোগ আসার পরে তিনি বলেন—শহরের বুনিয়াদি কাঠামো উন্নতির কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রকল্পের গতি হতাশাজনক। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল নিকাশি, জলসরবরাহ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, কিন্তু অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

কেইআইআইপি প্রকল্পের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ মেয়র, ভাঙাগড়ায় বাড়ছে অসন্তোষ

মেয়রের তীব্র ক্ষোভ: প্রকল্পে অনিয়ম ও ভাঙাগড়ার অভিযোগ

কেইআইআইপি প্রকল্পের কাজ নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ—পরিকল্পনা ছাড়াই বারবার ভাঙাগড়া ও অসম্পূর্ণ কাজ শহরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, “গড়ছে আর ভাঙছে—একটাও কাজ ঠিকমতো সম্পূর্ণ হয় না। শুধু টাকার অপচয় আর মানুষের কষ্ট।”‘টক-টু-মেয়র’ অনুষ্ঠানে বহু নাগরিক অভিযোগ করেন যে রাস্তা ও নিকাশির কাজ মাসের পর মাস পড়ে থাকছে, ফলে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাজের ধীরগতি ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা

শহরের বহু ওয়ার্ডে কেইআইআইপি প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মেয়র জানান—প্রশাসনিক গাফিলতি, নজরদারির অভাব এবং ঠিকাদারি সংস্থার উদাসীনতার ফলেই প্রকল্পে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।পুরসভার কিছু কর্মকর্তার দাবি, কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। বহুবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কাজের গতি বাড়েনি।

কেইআইআইপি প্রকল্পের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ মেয়র, ভাঙাগড়ায় বাড়ছে অসন্তোষ

আন্তর্জাতিক তহবিলের জটিলতা: কেন কঠোর ব্যবস্থা সম্ভব নয়

২০১৪ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের অর্থে শুরু হয় কেইআইআইপি প্রকল্প, যার লক্ষ্য—শহরের নিকাশি ব্যবস্থা, জলসরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং বর্জ্য শোধনাগার তৈরি। আন্তর্জাতিক ফান্ড যুক্ত থাকায় প্রকল্পের উপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও তার জটিলতা অনেক।পুরসভার একাংশ জানান, কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকায় দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও: বোরো ও কাউন্সিলরদের অভিযোগ

শুধু মেয়র নন, বোরো চেয়ারম্যান ও বহু কাউন্সিলরও এই প্রকল্পের অগোছালো কাজ নিয়ে বহুবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করে মাসের পর মাস কাজ ফেলে রাখা হয়, রাস্তা ঠিক করা হয় না, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অসুবিধা বাড়ছে।মেয়রের কাছেও তাঁরা একাধিকবার এই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।

প্রকল্পের গতি কি বাড়বে? প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মেয়র ইঙ্গিত দিয়েছেন—যদি কাজের গতি না বাড়ে, তবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক তহবিল এবং প্রশাসনিক জটিলতা বড় বাধা হিসেবে রয়েছে। তবে প্রকল্পের মানোন্নয়ন ও দ্রুত কাজের বিষয়ে চাপ বাড়ছে—এ নিয়ে প্রশাসনকে এখন দ্রুত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।

কেইআইআইপি প্রকল্পের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ মেয়র, ভাঙাগড়ায় বাড়ছে অসন্তোষ

কোলকাতায় কেইআইআইপি প্রকল্পের বারবার ভাঙাগড়া, ধীরগতির কাজ এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্প নিয়ে কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ‘টক-টু-মেয়র’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি জানান, এই প্রকল্প এখন “দুঃস্বপ্নে” পরিণত হয়েছে।

Leave a comment