লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনের টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু, আহত ২১

পাকিস্তানের লাহোরের কাহনা নাউ এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে পরিচালিত বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ শিশু ও এক শিক্ষিকা আহত হয়েছেন। পাঞ্জাব সরকার ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

লাহোরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে পরিচালিত একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২০ শিশু ও এক নারী শিক্ষিকা আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যাদের বয়স ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে বলে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনাটি মঙ্গলবার পাকিস্তানের লাহোর শহরের কাহনা নাউ (Kahna Nau) এলাকায় ঘটে। নির্মাণাধীন ভবনটিতে একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টার পরিচালিত হচ্ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ না হলেও সেখানে নিয়মিতভাবে শিশুদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছিল।

ছাদ ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো কক্ষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং শিক্ষার্থীরা ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন।

স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকারী সংস্থা ও ত্রাণকর্মীরা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাতে বিশেষ যন্ত্রপাতি ও মেশিন ব্যবহার করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপদভাবে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।

লাহোরে নির্মাণাধীন ভবনের টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু, আহত ২১

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১৪ শিশুর মধ্যে ৭ জন মেয়ে এবং ৭ জন ছেলে রয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

আহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাকে দ্রুত লাহোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। কয়েকজন শিশুর অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার লাহোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে। আহত শিশুদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গুরুতর আহতদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ আহতদের অবস্থার ওপর নজর রাখছে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে কোনো ধরনের অবহেলা না করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও নির্দেশ দিয়েছেন, কীভাবে নির্মাণাধীন ভবনে শিশুদের ক্লাস পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং ভবনটির নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

Leave a comment