ছয় মাসের অপেক্ষার পর মিলল স্বস্তি—ফেব্রুয়ারির টাকা পৌঁছল উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কে। তবে বকেয়া অর্থপ্রদান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ঘিরে জটিলতা এবার আদালতের নজরে।
দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
অভিযোগ, গত বছরের অগাস্ট মাস থেকে ময়না বিধানসভার বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থপ্রদান। প্রায় সাত হাজারেরও বেশি মহিলা উপভোক্তা মাসের পর মাস টাকা না পেয়ে সমস্যায় পড়েন। একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা।
আদালতের হস্তক্ষেপে ফেব্রুয়ারির টাকা
মামলার প্রাথমিক শুনানির পর রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চায় হাইকোর্ট। শুক্রবার আদালত সূত্রে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের কিস্তি ইতিমধ্যেই ৭০২০ জনের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা যাতে নিয়মিত অর্থ পান, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
বকেয়া ছয় মাসের টাকা নিয়ে প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অগাস্ট ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের বকেয়া কবে মিলবে? আদালত রাজ্যকে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলেছে। জানা গিয়েছে, তিন সপ্তাহ পর ফের শুনানি হবে। তখনই বোঝা যাবে বকেয়া অর্থ একসঙ্গে দেওয়া হবে, না কি ধাপে ধাপে।
কেন বন্ধ হয়েছিল টাকা?
প্রাথমিকভাবে প্রশাসনিক জটিলতা, নথি আপডেটের সমস্যা এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত ত্রুটির কথা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধার সংযুক্তিকরণ বা ব্যাঙ্কের তথ্যভ্রান্তি থাকলে অনেক সময় অর্থপ্রদান আটকে যেতে পারে। তবে এত দীর্ঘ সময় অর্থ বন্ধ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
উপভোক্তাদের কী করণীয়?
যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও অর্থ ঢোকেনি, তাঁদের ব্যাঙ্ক পাসবই আপডেট করে দেখা, আধার ও ব্যাঙ্ক লিঙ্ক রয়েছে কি না যাচাই করা এবং প্রয়োজনে ব্লক বা পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ জমা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ময়নার বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতে দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ফেব্রুয়ারির কিস্তি ঢুকেছে ৭০২০ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে। কিন্তু অগাস্ট ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া অর্থ কবে মিলবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা। জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।










