Earphones Risks: অতিরিক্ত ইয়ারফোনে স্থায়ী ক্ষতি! তরুণ প্রজন্মকে কড়া সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

অতিরিক্ত ইয়ারফোন ব্যবহারে স্থায়ী হিয়ারিং লসের আশঙ্কা। WHO-র সতর্কবার্তা, ৬০-৬০ নিয়ম মানার পরামর্শ চিকিৎসকদের। জানুন কানের সুরক্ষায় কী করবেন।

বাসে, মেট্রোতে, অফিসে কিংবা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে—কানে ইয়ারফোন আজ অভ্যাসের অংশ। গান, ওটিটি, অনলাইন ক্লাস বা ফোনকল—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এই ছোট ডিভাইস। কিন্তু আরামদায়ক এই অভ্যাসই নিঃশব্দে কানের ভেতরে বড় ক্ষতির বীজ বপন করছে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। সচেতনতা না বাড়লে আগামী দিনে কম বয়সেই শ্রবণ সমস্যায় ভুগতে পারে বড় অংশের মানুষ।

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে শ্রবণঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘ সময় অডিও শোনা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। World Health Organization-এর রিপোর্ট বলছে, ১২ থেকে ৩৫ বছর বয়সি বিপুল সংখ্যক তরুণ অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে থাকায় স্থায়ী হিয়ারিং লসের ঝুঁকিতে। শহুরে জীবনে শব্দদূষণ ও ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা এই সমস্যাকে আরও বাড়াচ্ছে।

কানের ভেতরে কীভাবে হয় ক্ষতি?

মানুষের কানের গঠন অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাইরে থেকে আসা শব্দ সাধারণত বায়ুর মাধ্যমে কানে প্রবেশ করে। কিন্তু ইয়ারফোন ব্যবহারে শব্দতরঙ্গ সরাসরি কানের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ইয়ারড্রামের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ভলিউমে শুনলে কানের অভ্যন্তরীণ অংশে ক্ষুদ্র কোষগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

ককলিয়ার ‘হেয়ার সেল’ একবার নষ্ট হলে আর ফেরে না

কানের ভেতরে ‘ককলিয়া’ নামের অংশে থাকে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ‘হেয়ার সেল’, যেগুলো শব্দ শনাক্ত করার সেন্সর হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত শব্দে এই কোষগুলো বাঁকতে ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সমস্যা হলো—মানুষের ক্ষেত্রে একবার এই কোষ নষ্ট হলে তা পুনরায় জন্মায় না। ফলে শ্রবণশক্তি কমে গেলে তা স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

টিনিটাস ও অন্যান্য জটিলতা

অতিরিক্ত ইয়ারফোন ব্যবহারের ফলে ‘টিনিটাস’ সমস্যাও দেখা দিতে পারে—যেখানে বাইরের শব্দ না থাকলেও কানে শিস বা ভোঁ ভোঁ আওয়াজ শোনা যায়। অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ শব্দও অসহ্য মনে হয়, যাকে বলা হয় ‘হাইপারঅ্যাকুসিস’। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে মাথা ঘোরা, কান ভারী লাগা বা সংক্রমণ।

সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় অপরিষ্কার ইয়ারফোন

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইয়ারফোন কানে রাখলে বাতাস চলাচল কমে যায়। এতে কানের ভেতরে আর্দ্রতা বাড়ে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। অপরিষ্কার ইয়ারফোন ব্যবহার বা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিলে সংক্রমণের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়।

‘৬০-৬০ নিয়ম’ মানার পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে, সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ভলিউম ৬০%-এর বেশি নয়

একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার নয়

প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৫ মিনিট বিরতি

সম্ভব হলে ইন-ইয়ার ইয়ারবাডের বদলে ওভার-দ্য-ইয়ার হেডফোন ব্যবহার করা ভালো। নিয়মিত অ্যালকোহল ওয়াইপ দিয়ে পরিষ্কার রাখাও জরুরি।

স্মার্টফোনের যুগে ইয়ারফোন যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করতে পারে—এমনই সতর্কবার্তা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের। World Health Organization জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটির বেশি তরুণ শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিতে। ‘৬০-৬০ নিয়ম’ মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a comment