সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখা জরুরি—এ কথা নতুন নয়। কিন্তু ঝোপঝাড়ে বেড়ে ওঠা, কমদামি কলমি শাক যে এত উপকারী, তা অনেকেই জানেন না। নিয়মিত খেলে রক্তের ঘাটতি কমে, হজমশক্তি বাড়ে এবং শরীর পায় প্রাকৃতিক ডিটক্স সাপোর্ট।
পুষ্টিগুণে ভরপুর ‘ওয়াটার স্পিনাচ’
উত্তর ভারতে ‘কলমি শাক’ নামে পরিচিত এই সবুজ পাতাকে অনেকেই ‘ওয়াটার স্পিনাচ’ বলেন। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, কে, বি-কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফাইবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা কোষের ক্ষয় রোধে সহায়ক।
রক্তাল্পতা ও মহিলাদের স্বাস্থ্যে উপকারী
কলমি শাকে আয়রনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। নিয়মিত খেলে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা রক্তাল্পতায় ভোগেন বা মাসিকজনিত দুর্বলতা অনুভব করেন, তাঁদের জন্য এটি খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে।
কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
এই শাকে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় সীমিত পরিমাণে এটি রাখা যায়—তবে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
চোখ, ত্বক ও লিভারের যত্নে
ভিটামিন এ ও ক্যারোটিনয়েড চোখের স্বাস্থ্যে সহায়ক। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে কলমি শাক খেলে ত্বকের জেল্লা বাড়তে পারে এবং ফ্রি-র্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে।
হজমশক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর
উচ্চ ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় কলমি শাক হজমে সহায়তা করে এবং মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের জন্য কম ক্যালোরিযুক্ত এই শাক একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
বর্ষায় সহজলভ্য ও সস্তা সবুজ শাক কলমি—যা ইংরেজিতে Ipomoea aquatica নামে পরিচিত—পুষ্টিগুণে ভরপুর। আয়রন, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই শাক রক্তাল্পতা দূর করা থেকে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট ও ত্বকের যত্নে কার্যকর বলে মত বিশেষজ্ঞদের।













