Logical Discrepancy: শুনানিতে তলব ভোটারের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে কোচবিহারে, চার লক্ষ ছাড়াল তালিকা

Logical Discrepancy: শুনানিতে তলব ভোটারের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে কোচবিহারে, চার লক্ষ ছাড়াল তালিকা

ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন করে চাপ বাড়ল কোচবিহার জেলা প্রশাসনের উপর। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে যে ভোটারদের শুনানিতে ডাকার প্রয়োজন, তাঁদের সংখ্যা কয়েক দিনের মধ্যেই কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চার লক্ষ ছাড়াল ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ভোটার

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার ন’টি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে রবিবার বিকেল পর্যন্ত চার লক্ষেরও বেশি ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিয়মিত ডেটা আপডেটের ফলে এই তালিকা প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে।

সিতাই ও শীতলখুচিতে সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি

পরিসংখ্যান বলছে, তথ্যগত অসঙ্গতি সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে। এখানে ৫৪ হাজারেরও বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঠিক তার পরেই রয়েছে শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে প্রায় সমান সংখ্যক ভোটার এই তালিকায় রয়েছেন। দিনহাটা বিধানসভাতেও পরিস্থিতি প্রায় একই রকম।

উত্তর ও দক্ষিণ কোচবিহারে হঠাৎ বৃদ্ধি

কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যেখানে এই ধরনের ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৪ হাজারের কিছু বেশি, রবিবারের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় ৪৭ হাজারে পৌঁছেছে। একইভাবে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ২৭ হাজারের ঘর পেরোনো সংখ্যা রবিবার বিকেলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজারে।

কী কারণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’

ভোটার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতিকেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। যেমন—

ভোটারের বয়স ও বাবার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি

একজন ভোটারের সঙ্গে ছ’জনের বেশি সন্তানের নাম যুক্ত থাকা

ঠাকুরদা–ঠাকুমা বা দাদুর সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম

নাম, অভিভাবকের নাম বা পারিবারিক লিঙ্কে অসামঞ্জস্য

এই ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের উদ্বেগ: শুনানি হবে কীভাবে

নির্বাচনী কাজের সঙ্গে যুক্ত জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, “সবাইকে শুনানিতে ডাকতে হলে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের শুনানি কীভাবে করা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অফিসে জায়গা নেই, কর্মীর সংখ্যাও সীমিত। ডকুমেন্ট যাচাই থেকে অনলাইনে আপলোড—সব কিছুতেই সময় লাগবে।”

সময়সীমা নিয়ে চাপ

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার থেকেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ থাকা ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা শুরু হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারির মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। হাতে সময় কম থাকায় প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে চাপ।

বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা

আধিকারিকদের একাংশের মত, সামান্য ভুল থাকলে যদি বিএলওদের মাধ্যমে বাড়ি গিয়ে কাগজপত্র সংগ্রহ করে অনলাইনে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে শুনানিতে ডাকার ভোটারের সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে এ বিষয়ে কমিশনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশ আসেনি।

কোচবিহার জেলায় ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত অসঙ্গতির জেরে শুনানিতে ডাকার জন্য চিহ্নিত ভোটারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত এই সংখ্যা চার লক্ষ ছাড়িয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

Leave a comment