হঠাৎ লো ব্লাড প্রেসার? চিকিৎসক বলছেন কোন ৫টি লক্ষণে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবেন

হঠাৎ লো ব্লাড প্রেসার? চিকিৎসক বলছেন কোন ৫টি লক্ষণে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেবেন

হঠাৎ লো ব্লাড প্রেসার হলে কী করবেন: এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বিভিন্ন মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ। কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার কারণে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন, যাঁদের বেশিরভাগেরই কারণ নিম্ন রক্তচাপ। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে জলশূন্যতা, অতিরিক্ত গরম, স্ট্রেস, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এ ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই লক্ষণ বুঝেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

লো ব্লাড প্রেসারের প্রধান লক্ষণ কী কী?

লো ব্লাড প্রেসারের প্রথম লক্ষণ সাধারণত মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, বমি-বমি ভাব বা দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া।চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছতে দেরি হয়, ফলে অস্থিরতা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার সময় বেশি সমস্যা অনুভব করেন। অতিরিক্ত গরম বা ডিহাইড্রেশনও আকস্মিক রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।

হঠাৎ লো প্রেসার হলে অবিলম্বে কী করবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রথমে রোগীকে সমতল জায়গায় শুইয়ে পা কিছুটা উঁচু করতে হবে। এতে রক্ত দ্রুত উপরের দিকে পৌঁছায় এবং মাথা ঘোরা কমে যায়।এরপর কম লবণযুক্ত স্যালাইন বা ওআরএস খাওয়ানো যেতে পারে। শরীরে জল ও ইলেক্ট্রোলাইটের সামঞ্জস্য রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান, তবে বাড়িতে কোনো ওষুধ না দিয়ে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।

কেন বাড়ছে লো ব্লাড প্রেসারের ঘটনা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত খাবার সময়, অতিরিক্ত কাজের চাপ, ঘুমের অভাব এবং তীব্র গরমে জলশূন্যতা—এ সবই রক্তচাপ হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে।অনেক সময় যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দীর্ঘদিন খান, তাঁদের ক্ষেত্রেও মাত্রা বেশি হলে প্রেসার হঠাৎ নেমে যেতে পারে। বয়স্কদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও সাধারণ।

কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?

যদি লো প্রেসারের লক্ষণ বারবার দেখা যায় অথবা মাথা ঘোরা দীর্ঘক্ষণ ধরে থাকে, তখন দ্রুত মেডিক্যাল চেক-আপ প্রয়োজন।চিকিৎসকেরা রক্তচাপের পাশাপাশি ইসিজি, ব্লাড সুগার ও থাইরয়েড টেস্ট করার পরামর্শ দেন, কারণ এরকম সমস্যা কখনও কখনও অন্য রোগেরও লক্ষণ হতে পারে।

প্রতিরোধে কী করবেন? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া, নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার এবং অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।সকালে বিছানা থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়ানো এড়িয়ে চলা উচিত। ধীরে ধীরে উঠলে রক্তচাপ স্থিতিশীল থাকে এবং মাথা ঘোরা কম হয়।

হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, ঝিমুনি বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। লবণ–জল, ইলেক্ট্রোলাইট ও সঠিক বিশ্রাম রক্তচাপ দ্রুত স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে। গুরুতর ক্ষেত্রে অবিলম্বে হাসপাতালের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a comment