শরীরে সোডিয়াম কমছে? মাথা ঘোরা থেকে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন— ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’র বিপদ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসক

শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে দেখা দিতে পারে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যা। ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে জলের ঘাটতির পাশাপাশি বাড়ছে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অত্যধিক কমে গেলে তা নীরব বিপদ ডেকে আনতে পারে। প্রথমদিকে সাধারণ দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলেও, পরিস্থিতি গুরুতর হলে তা স্নায়ু ও হৃদযন্ত্রের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সোডিয়াম?

শুধু নুনের স্বাদ বাড়ানো নয়, শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য সোডিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ উপাদান। শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর সংকেত আদানপ্রদান এবং পেশির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে সোডিয়ামের বড় ভূমিকা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলিতে ব্যাঘাত ঘটে এবং তখনই শুরু হয় নানা শারীরিক সমস্যা।

কী এই ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাওয়াকে বলা হয় ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’। অনেকেই এটিকে সামান্য সমস্যা বলে মনে করলেও, সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি মারাত্মক আকার নিতে পারে।নয়াদিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান ডঃ অমরেন্দ্র পাঠকের মতে, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম, বমি, ডায়রিয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা অতিরিক্ত জল পান করার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শরীরে সোডিয়াম কমলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?

সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে শরীর একাধিক সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে। যেমন—

মাথাব্যথা

দুর্বলতা ও ক্লান্তি

মাথা ঘোরা

বমিভাব

পেশিতে টান

বিভ্রান্তি বা মনোসংযোগে সমস্যা

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

খিঁচুনি

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের উপসর্গ দীর্ঘ সময় ধরে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বাড়ে কি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সোডিয়ামের ঘাটতি সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের কারণ না হলেও এটি হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।

গরমে কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী—

অতিরিক্ত ঘাম হলে ওআরএস পান করুন

ডাবের জল ও লেবুর শরবত খেতে পারেন

পরিমিত পরিমাণে জল পান করুন

অতিরিক্ত জল খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন

সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখাই এই সমস্যার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে দেখা দিতে পারে দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি, এমনকি খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গও। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত জল পান করার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে হৃদস্পন্দনের ছন্দেও প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a comment