রান্নার গ্যাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই— এমন আশ্বাস বারবার দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু মাটির বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। বুকিং করতে গিয়ে ফোনে সমস্যা, সার্ভার বিভ্রাট, আবার বুকিং হলেও দীর্ঘদিন সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ— এই সব মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় LPG গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

ফোনে বুকিং প্রায় অচল, লাইনে ভিড় গ্রাহকদের
আগে ফোন করলেই সহজেই গ্যাস বুকিং হয়ে যেত। কখনও কয়েকটি মিস কলেই বুকিং সম্পন্ন হত, আবার কোথাও রোবো কলের মাধ্যমে নম্বর যাচাই করে বুকিং নেওয়া হত। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে সেই পরিষেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ফোন করলে বলা হচ্ছে নম্বরটি অস্তিত্বহীন, কখনও বা জানানো হচ্ছে নেটওয়ার্ক পরিষেবার বাইরে। ফলে সকাল থেকেই ডিলারদের অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রাহকেরা।
বুকিং হলেও মিলছে না সিলিন্ডার
অনেক ক্ষেত্রে বুকিং নম্বর বা ডিএসি নম্বর পাওয়া গেলেও সমস্যা মিটছে না। অভিযোগ, বুকিংয়ের পর আট থেকে দশ দিন কেটে গেলেও ক্যাশ মেমো জেনারেট হচ্ছে না। আবার কোথাও ক্যাশ মেমো তৈরি হলেও সিলিন্ডার পৌঁছচ্ছে না গ্রাহকের বাড়িতে। ফলে প্রতিদিনই নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

KYC আপডেটের ঝামেলাও বাড়াচ্ছে ভোগান্তি
ক্যাশ মেমো তৈরি হওয়ার আগেই বহু গ্রাহককে কেওয়াইসি আপডেট করতে বলা হচ্ছে। ডিলারের ফোন পেয়ে অনেকেই তড়িঘড়ি ডিলার অফিস বা সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে নথি আপডেট করছেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কেওয়াইসি আপডেটের পরেও অনেক ক্ষেত্রে কয়েকদিন ধরে বিল জেনারেট হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল
ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও পড়েছে গ্যাস সরবরাহে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জোগান কমেছে বলে জানাচ্ছেন ডিস্ট্রিবিউটর সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনেক জায়গায় গ্যাস সরবরাহ আগের তুলনায় প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ কমে গেছে।
আতঙ্কে বাড়তি বুকিং করছে গ্রাহকেরা
ডিলারদের মতে, অনেক গ্রাহক আতঙ্কে প্রয়োজনের আগেই সিলিন্ডার বুক করছেন। ফলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। আগে যেখানে দিনে ১৮০০–২০০০ সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন অনেক জায়গায় সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১০০০–১০৫০–এ নেমে এসেছে।

কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি?
ডিলার সংগঠনের দাবি, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে। সম্প্রতি বুকিং সার্ভার আপডেট করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তাঁদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে হঠাৎ করে নেওয়া কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও সমস্যাকে বাড়িয়েছে বলে মত ডিলার সংগঠনের একাংশের।

দেশে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বাস দিচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু বাস্তবে বুকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং সার্ভার সমস্যার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন LPG গ্রাহকরা। শহর থেকে শহরতলি— সর্বত্র একই ছবি।












